
লেখকঃ ডাঃ তিমির বরণ চৌধুরী
স্বাস্হ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ।
ভাইস চেয়ারম্যান,পটিয়া উপজেলা পরিষদ।।
🔸কৃমি হলে কিছু কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন-বমি বমি ভাব, পেট ব্যথা, পেট মোটা বা ভারি হওয়া, খাবারে অরুচি, মুখে থুথু ওঠা এবং কোনো কোনো কৃমিতে পায়খানার রাস্তার পাশে চুলকানি হতে পারে। কৃমি হলে সাধারণত অপুষ্টি দেখা দেয়। রক্তশুন্যতা দেখা দেয়। হুক ওয়ার্মের একমাত্র খাদ্য হচ্ছে আক্রান্ত রোগীর রক্ত। অনেক সময় বক্র কৃমির এক মুখ শিশুদের এপেনডিক্সের মধ্যে প্রবেশ করে।
ফলে এপেনডিসাইটিসের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। শিশুর নাক, মুখ দিয়েও কৃমি পড়তে পারে। পেটে কৃমির আধিক্যে অন্ত্রনালীর পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া অন্ত্র ফুটো করে মারাত্মক অবস্হার সৃষ্টি করতে পারে।
🔴 কৃমির ওষুধ ও সেবনের নিয়মাবলী :: দুই বছরের পর থেকে সবার জন্য কৃমির ওষুধের ডোজ একই, অর্থাৎ আপনি যে পরিমাণ ওষুধ খাবেন, আপনার আড়াই বছরের শিশুও একই পরিমাণ ওষুধ খাবে। তাই এ ব্যাপারে বিভ্রান্ত হবেন না। বাড়ির সবার একসঙ্গে কৃমির ওষুধ খাওয়া উচিত। এতে ক্রিমি থেকে সহজে রক্ষা পাওয়া যায়। সুস্থ মানুষ বা শিশুরা যদি চার-পাঁচ মাস পরপর কৃমির ওষুধ খায়, তাহলে কোনো ক্ষতি হয় না। আজকাল দুই বছরের কম বয়সী শিশুদেরও কৃমির ওষুধ খাওয়ানো যায়, কিন্তু তার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
👉শিশু সুতাকৃমি বাদে অন্য কৃমিতে আক্রান্ত হলে মেবেনডাজল ১০০ মিলিগ্রামের একটি বড়ি ১২ ঘণ্টা পরপর তিন দিন বা অ্যালবেনডাজল ৪০০ মিলিগ্রামের একটি বড়ি বা পিপেরাজিন ৪ গ্রামের একটি বড়ি খাওয়াতে হবে।
👉সুতাকৃমি হলে মেবেনডাজল ১০০ মিলিগ্রামের বা অ্যালবেনডাজল ৪০ মিলিগ্রামের বা পিপেরাজিন ৪ গ্রামের একটি বড়ি খাওয়াতে হবে।এর দুই সপ্তাহ পর আরো একটি বড়ি খাওয়াতে হবে।
কৃমির ওষুধের জন্য শীত বা গ্রীষ্ম কোনো ব্যাপার নয়, যেকোনো সময়ই খাওয়ানো যায়। এতে শিশুর কোনো ক্ষতি হয় না।
জেনে রাখা ভালো, বিভিন্ন জাতের কৃমি শিশুদের শরীরে নানা রকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। শিশুদের কৃমির লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে খাওয়ায় অরুচি, আয়রনের ঘাটতি এবং রক্তশূন্যতার কারণে দুর্বলতা, বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, অপুষ্টিতে ভোগা, পেট ফাঁপা ও ডায়রিয়া। কৃমির কারণে অ্যালার্জি, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট, কফ-কাশি হতে পারে।
জনস্বার্থে:- ডাঃ তিমির বরণ চৌধুরী
স্বাস্হ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামীলীগ
ভাইস চেয়ারম্যান, পটিয়া উপজেলা পরিষদ।।









