রাউজানের কৃতিসন্তান,বিশিষ্ট সমাজসেবক,জনাব ফজলে রাব্বি চৌধুরী (মানিক) সাহেব ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলায়হে রাজিউন।
মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৯ বছর। এই মুহুর্তে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায় নি। আগামীকাল বাদে জুমা রাউজানের গহিরা কলেজ মাঠে জনাব ফজলে রাব্বি চৌধুরীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, রাউজান পৌরসভার মাননীয় মেয়র দেবশীষ পালিত
পৌর মেয়র দেবাশীষ পালিত বলেন, রাজনীতির অনেক টানাপোড়েনের মধ্যেও যিনি অতিসহজে মানুষকে আপন করে নিতেন,আমার একজন প্রিয়মানুষ,বিশিষ্ট সমাজসেবী,রাউজান এর কৃতিসন্তান জনাব এ বি এম ফজলে রাব্বী চৌধুরী মানিক ভাইয়ের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। অামি মরহুমের অাত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান সৃষ্টিকর্তা মানিক ভাইকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন, অামিন।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, জনাব এ.বি.এম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি মহোদয়ের মেজ ভাই জনাব ফজলে রাব্বি চৌধুরী (মানিক) সাহেব ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলায়হে রাজিউন।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। এই মুহুর্তে তার মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায় নি। আগামীকাল বাদে জুমা রাউজানের গহিরা কলেজ মাঠে জনাব ফজলে রাব্বি চৌধুরীর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।
তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন,বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মোহাম্মাদ গালিব সাদলী।
চৌধুরী মোহাম্মাদ গালিব সাদলী বলেন,
তাঁর মৃত্যুতে বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ পরিবার এবং বাংলাদেশ অাওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
অামি মরহুমের অাত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান অাল্লাহ তা’অালা মানিক চাচাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন, অামিন।
মরহুমের ভাই ফজলে করিম চৌধুরী এম.পি বলেন, একজন মুসলমান হিসেবে মৃত্যুর পর জানাজা পড়ানোর বিধান থাকায় আমরা পারিবারিকভাবে খোলা মাঠে জানাজার নামাজ পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার বুকে পাথর রেখে অামার পিতৃতুল্য বড় ভাই হওয়া সত্ত্বেও রাউজানবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে জানাজায় না এসে বরং সকলে ঘরে বসে অামার ভাইয়ের জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানাচ্ছি।
অাজ ৪ জুন সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এবং কাট্টলী কর্নেল হাট হাশেম নাজির হেলথ সেন্টারে স্থাপিত করোনা ভাইরাস টেস্টিং বুথ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
বুধবার (৩ জুন) সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের দফতরে এক প্রস্তুতি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এ সময় মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান, ব্র্যাক বাংলাদেশের ম্যানেজার ডা. রোমানা খান, আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. হানিফ উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কর্নেল হাট করোনা ভাইরাস টেস্টিং বুথে সংগ্রহকৃত নমুনা বিআইটিআইডিতে, প্রেসক্লাবের করোনা ভাইরাস টেস্টিং বুথে সংগ্রহকৃত নমুনা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে এবং কুলগাঁও সিটি করপোরেশন কলেজে করোনা ভাইরাস টেস্টিং বুথে সংগ্রহকৃত নমুনা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি বুথগুলো চালু করা হবে।
করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে চিকিৎসা নেওয়া ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেই সতর্ক করবে স্মার্টফোন। এমন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় চলছে। ইসরায়েল, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, হংকং, রাশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে এরই মধ্যে এটি চালু হয়েছে। লোকেশন ম্যাপ, কিউআর (কুইক রেসপন্স) কোড ফিচার ব্যবহার করে সুফল পাচ্ছে এসব দেশের নাগরিক। প্রযুক্তির মাধ্যমে করোনাভাইরাস মহামারি ছড়ানো ঠেকাতে সহায়ক এই অ্যাপ নিয়ে বাংলাদেশেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অ্যাপটি নিয়ে দেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা প্রায় দুই মাস ধরে কাজ করছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই অ্যাপ চালু করতে যাচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ।
জানতে চাইলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহেমদ পলক গতকাল বলেন, ‘করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমরা ঘরে বসে করোনা পরীক্ষা, ভার্চুয়াল হাসপাতাল, হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবার মেসেঞ্জার, কভিড-১৯ ট্র্যাকারসহ নানা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছি। নাগরিকদের সুরক্ষায় কন্টাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ নিয়ে আমরা বেশ কিছু দিন থেকে কাজ করছিলাম। অবশেষে আমরা এটি চালু করতে পেরেছি। আগামীকাল (আজ) এর উদ্বোধন করা হবে।’
এই অ্যাপ কিভাবে কাজ করবে জানতে চাইলে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘কন্টাক্ট ট্রেসিং অ্যাপ ডাউনলোড করার পর স্মার্টফোনের লোকেশন এবং ব্লুটুথ অন রেখে বাড়ির বাইরে বের হলে এটি এক-দুই মিটারের মধ্যে যারা থাকবে তাদের হিস্ট্রিগুলো আমাদের ডাটাবেইসে পাঠাবে। কেউ যদি আক্রান্তের কাছাকাছি চলে যায় তাহলে সে স্মার্টফোনে অ্যালার্ট পাবে। তার সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিরা যদি কয়েক দিন পরও করোনা পজিডিভ হয় তাহলেও স্মার্টফোন থেকে সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে। সে ক্ষেত্রে ফোন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হবে।’
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা মনে করছি এটা যেহেতু একটি দীর্ঘায়িত সমস্যা, তাই কন্টাক্ট ট্রেসিং অ্যাপটি আমাদের সবাইকে ব্যবহার করতে হবে।’
জানা গেছে, এটি গুগল প্লেস্টোর থেকে যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ডাউনলোড করা যাবে। এই অ্যাপটি তৈরি করতে আইসিটি বিভাগের নেতৃত্বে পাঁচটি সংস্থা কাজ করেছে। তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগ, এটুআই, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইইডিসিআর, প্রযুক্তি পার্টনার হিসেবে সহজ ডিজিটাল সল্যুশনস কাজ করেছে।
কন্টাক্ট ট্রেসিং কী? কন্টাক্ট ট্রেসিং হচ্ছে একটি পদ্ধতি, যা সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে ব্যবহার করা হয়। করোনাভাইরাস মহামারির ক্ষেত্রে যেসব মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছে তাদের স্বেচ্ছা আইসোলেশনে যেতে বলা হয়। এটা সাধারণত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের ফোনের মাধ্যমে জানানো হয়। সঙ্গে একটা স্বয়ংক্রিয় লোকেশন ট্র্যাকিং মোবাইল অ্যাপও সংযুক্ত করা হয়। করোনাভাইরাসে শনাক্ত কারো সংস্পর্শে এলে অ্যাপটি তার সময় ও স্থান তুলে ধরে সতর্কবার্তা পাঠাবে। ফোনের শুধু জিপিএস ডাটা নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত রোগীদের ডাটার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। তারপর নিয়মিত ব্যবহারকারীকে বার্তা পাঠানো হবে এবং শুধু ব্যবহারকারীকেই পাঠানো হবে।
করোনাভাইরাসের মারাত্মক প্রাদুর্ভাবের শিকার দেশগুলোতে এরই মধ্যে কন্টাক্ট ট্রেসিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, অ্যাপ ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও অবস্থানগত ডাটা তাদের ফোনেই সীমাবদ্ধ থাকবে, অন্য কেউ পাবে না। তাই ব্যক্তির অগোচরে অ্যাপের অপারেটর তাদের ওপর নজরদারি করতে পারবে না। করোনাভাইরাসের সংস্পর্শে আসার বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হবে কি না তা নির্ধারণের পুরো স্বাধীনতা ব্যক্তির থাকবে।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলেছে যে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার তিন ঘণ্টা পর ওই মৃতদেহে আর ভাইরাসটির কোন কার্যকারিতা থাকে না। ফলে মৃতদেহ থেকে এই ভাইরাস ছড়ানোর কোন আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. নাসিমা সুলতানা। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিষয়ক তথ্য নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার করতে তিন চার ঘণ্টা সময় লেগেই যায়। তিন ঘণ্টা পরে আর মৃতদেহে এই ভাইরাসের কার্যকারিতা থাকে না। আর এ কারণেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কেউ মারা গেলে তাকে স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে নিজ ধর্ম মেনে সৎকার কিংবা পারিবারিক কবরস্থানেই তাকে দাফন করা যাবে বলে জানানো হয়। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার দাফন ও সৎকার নিয়ে নানা ধরণের স্টিগমা এবং ভয় প্রচলিত আছে। আর এ কারণে, মারা যাওয়ার দীর্ঘ সময় পরও মৃতদেহ সরানো বা দাফন না হওয়ার নানা ঘটনাও সামনে আসে।
ক্যান্সারে আক্রান্ত একজন প্রবাসী বাংলাদেশির শেষ ইচ্ছা পূরণ করে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করলেন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকেরা
রানা শিকদার,বয়স ৩২ বছর।একজন প্রবাসি কর্মী, একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধা।বাড়ি নারায়ণগঞ্জে।সংসারে স্বাচ্ছন্দ্য আনতে ২০০৮ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই চলে যান সিঙ্গাপুর। সিঙ্গাপুরে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে খেয়ে না খেয়ে পরিবার ও দেশের জন্য টাকা পাঠান।
মে মাসের শুরুর দিকে হঠাৎ রানার পেটে ব্যথা আর বমি হয়।পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানা গেল তার পাকস্থলীতে ক্যানসার। চিকিৎসকেরা জানালেন, একেবারে শেষ পর্যায়ে ক্যানসার,তাদের আর কিছু করার নেই।
রানা বলেন,মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। সঙ্গে-সঙ্গে মা আর ছেলের মুখটা ভেসে উঠল মনে। ডাক্তারদের বললাম, যেহেতু বাঁচব না,তাই জীবনের শেষ কটা দিন পরিবারের সঙ্গে কাটাতে চাই। কিন্তু,ততদিনে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। বিমান চলাচল বন্ধ। ভেবেছিলাম, জীবনে হয়তো আর কোনো দিনই ছেলের মুখটা দেখতে পাব না। সারাক্ষণ কান্না করতাম।
সিঙ্গাপুরের হাসপাতালের চিকিৎসক সিনথিয়া গুহ হঠাৎ রানার জীবনের গল্প শুনলেন।বললেন,দেখি কী করা যায়।
সিনথিয়া বলেন,রানার শেষ ইচ্ছাটা (দেশে ফেরা) আমি জানতে পারি ১৫ মে। এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি বাংলাদেশ হাইকমিশনে যোগাযোগ করতে বললেন।যোগাযোগ করি,কিন্তু আশানুরূপ সাড়া পাইনি।এক পর্যায়ে হাসপাতালের একজন নার্স প্রস্তাব করেন, আমরা ক্রাউডসোর্সিংয়ের মাধ্যমে রানার জন্য ফান্ড তৈরি করতে পারি। তার দল তখন রানাকে বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য সব ধরণের প্রচেষ্টা শুরু করে।
সিনথিয়া বলেন, ১০ জুনের আগে স্বাভাবিক ফ্লাইট চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যাবে। আমি দ্রুত একটা মেডিকেল ইভাকুয়েশন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারা জানায়, যদি সিঙ্গাপুরের স্থানীয় কেউ দায়িত্ব নেয়, তবে তারা রোগী ঢাকায় পৌঁছে দেবে। টাকা পরে দিলেও হবে। এরপর দ্রুত যোগাযোগ করি সিঙ্গাপুরের মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কার্স সেন্টারে। তারা অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করে। আমরা ক্রাউডসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ফান্ড জোগাড়ের পুরো ব্যাপারটা তাদের বুঝিয়ে দেই।
ডা.সিনথিয়া জানান, যখন সব মোটামুটি গুছিয়ে আনা হচ্ছে,তখন বাংলাদেশ হাইকমিশন রানার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলল।তহবিল ছাড়াও, বাংলাদেশ হাই কমিশন রানা যে বাংলাদেশী তার প্রমাণ হিসাবে চাইলে সমস্যা দেখা দেয়।সিনথিয়া বাংলাদেশে রানার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে হাইকমিশনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। এরপর হাইকমিশন বলল, করোনা পরীক্ষার ফলাফলও জমা দিতে হবে। তাও দেওয়া হয়।এর পর এক শুক্রবার বাংলাদেশ হাইকমিশন জানায়, রানাকে বাংলাদেশের কোন হাসপাতাল গ্রহণ করবে তা তাদের জানাতে এবং ওই হাসপাতালের একটা চিঠি হাইকমিশনে পাঠাতে।
সিনথিয়িা বলেন, সৌভাগ্যবশত, আমি বাংলাদেশে প্রায় ছয় বছরের মতো ক্যানসারের ওপর কাজ করেছি। তাই সেখানে আমার পরিচিত ডাক্তারদের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) যোগাযোগ করি। তারা রানাকে গ্রহণ করতে রাজি হয় এবং একটা চিঠিও পাঠায়।
ডা.সিনথিয়া বলেন, হাইকমিশনে ওই চিঠি জমা দেওয়ার পর তারা জানায়, বিশেষ বিমান অবতরণের জন্য সিভিল এভিয়েশনের অনুমতি লাগবে। আবার বাংলাদেশে যোগাযোগ করে অনুমতি জোগাড় করি। সবশেষে ২২ মে রাতে আমরা রানাকে তার জন্মভূমিতে,পরিবারের কাছে পাঠাতে সক্ষম হই।
অবশেষে গত ২২ মে মধ্যরাতে প্রাইভেট বিমান চার্টার্ড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে রানাকে পৌঁছে দেন বাংলাদেশে। তার সাথে এসেছেন হাসপাতালটির দু’জন ডাক্তারও।
রানাকে বিশেষ বিমানে বাংলাদেশে পাঠাতে খরচ হয় ৪৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বা ৩১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। আর রানার জন্য ডা. সিনথিয়ারা যে তহবিল গঠন করেছিলেন মাত্র ৭২ ঘণ্টায় তাতে জমা পড়ে ৬০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার বা ৩৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বাকি টাকা খরচ হবে রানার পরিবারের কল্যানে।
বিএসএমএমইউ হাসপাতালের অনুমতি নিয়ে ২৩ মে দুপুরে নারায়ণগঞ্জে নিজ বাড়িতে চলে যান রানা শিকদার। আছেন পরিবারের সান্নিধ্যে।
কেন এতটা ঝামেলা নিলেন— জানতে চাইলে সিনথিয়া বলেন, রানার চাওয়া তো খুব বেশি কিছু না। শুধু জীবনের শেষ কয়টাদিন পরিবারের সঙ্গে কাটাতে চেয়েছেন তিনি। মানুষ হিসেবে যদি এইটুকু না করতে পারতাম,তবে নিজেকে অপরাধী মনে হতো।
আবেগাপ্লুত রানা বলেন, আমার কাছে কৃতজ্ঞতা জানানোর কোনো ভাষা নেই, তিনি নিশ্চিত, সিনথিয়া গুহ এবং তার দলটি মানুষ ছিলেন না। “তারা ফেরেশতা।”
সীমাহীন কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক ভালবাসা রইলো সিনথিয়া গুহ এবং সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের জন্যে। দোয়া করুন অসুস্থ রানা শিকদারের জন্যে।
যা দেখছেন তা যুদ্ধ বিধ্বস্ত কোনো দেশের মরদেহ পরিবহনের চিত্র নয়। করোনায় অাক্রান্ত মৃতদেহ নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরের উত্তর কাট্টলীর সনৎ দত্ত মহাশ্মশানে যাওয়ার চিত্র। যেই পথ দিয়ে প্রতিদিন ২/৩ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মৃতদেহ নিয়ে যেতে হয়।
ভাঙা সড়ক ও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বিনা পারিশ্রমিক ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই দাহ কাজে যুক্ত তরুণ-যুবকদের পোহাতে হচ্ছে অবর্ণনীয় কষ্ট। এরপরেও থেমে নেই এই স্বেচ্ছাসেবীরা। থেমে নেই তাদের মহৎ কাজ। যেখানে পাড়া-প্রতিবেশী, অাত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে নিজের পরিবারের লোকজন পর্যন্ত করোনার ভয়ে কাছে অাসতে চায় না, সেখানে তারা উঁচু,নিচু,কর্দমাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে একের পর এক সৎকার করে যাচ্ছেন করোনায় আক্রান্ত মৃত ব্যাক্তিদের।
চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যেসব হিন্দু ধর্মাবলম্বী মৃত্যু বরণ করবেন তাদের দাহ করার জন্য নগরীর উত্তর কাট্টলী সনৎ দত্ত সার্বজনীন মহাশ্মশান টি ঠিক করে দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। এজন্য একটি স্বেচ্ছাসেবক কমিটিও গঠন করে দেয় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। কিন্তু সেই কমিটির কারো হদিস মিলে নি। তাদের কোন কার্যক্রম ও চোখে পড়ে নি।
তাই করোনায় আক্রান্তে মৃত ব্যক্তিদের সৎকারে এগিয়ে এসেছে চট্টগ্রামের একদল স্বপ্নবাজ তরুণ-যুবক। নিজস্ব উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করে একটি সংগঠন।তারা তাদের সংগঠনের নাম দিয়েছে করোনা মৃতদেহ সৎকার স্বেচ্ছাসেবক সংঘ চট্টগ্রাম। যেটির প্রধান করা হয়েছে আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জহুরলাল হাজারীকে। করোনা আক্রান্ত রোগীদের অনেকটা নীরবেই নিজ উদ্যোগে সৎকার করছেন কমিটির সদস্যরা কিন্তু সিটি করপোরেশন কোনো দায়িত্ব পালন করছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তারা জানান, নগরীর উত্তর কাট্টলী টোল রোডের পাশে সমুদ্র পাড়ে অবস্থিত এ মহাশ্মশান। কিন্তু এ কাজে নিয়েজিত স্বেচ্ছাসেবকদের মরদেহ নিয়ে যেতে পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। কখনো বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হাটু সমান পানিতে, কখনো জোয়ারের পানিতে সাঁতরিয়ে অাবার কখনো বা কাঁদা মাটি মাড়িয়ে পিপিই পরে যেতে হয় তাদের। অনেক সময় করোনা আক্রান্ত মরদেহ স্ট্রেচার থেকে মাটিতে পড়ে যাওয়ার উপক্রমও হয়।
বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় এই জায়গাটি Daily Local voice
কমিটির আহ্বায়ক সুমন পাল বলেন, আমরা নিজ অবস্থান থেকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে চট্টগ্রামে যতজন করোনা আক্রান্ত হিন্দু মানুষ মারা যান তাদের সৎকার করি। কাঠ যদি পরিবার থেকে দিতে না পারে আমরা নিজেরাই ব্যবস্থা করি, আর পরিবার থেকে দিতে পারলে তাদের দেওয়া কাঠেই দাহ করা হয়। সরকারিভাবে এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অামাদের সহায়তা করার কথা থাকলেও সেরকম কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ সুমন পালের।
কমিটির সদস্য অজয় দত্ত বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মধ্যে বলুয়ার দীঘির পাড়ে অারো একটি শশ্মান ছিল যেটা হলে অামাদের স্বেচ্ছাসেবকদের সৎকারকার্য সম্পাদন করতে সুবিধা হতো কিন্তু সেটা ঠিক না করে অজপাড়া গায়ে যেখানে নেই কোন যোগাযোগ ব্যাবস্থা, নেই সৎকার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, সেখানে কেন সিটি করপোরেশন সৎকারের জন্য জায়গা ঠিক করে দিল অামার জানা নেই। সৎকারের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠ,কেরোসিন,ধূপ এর সংকট রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি অারো বলেন, সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কাঠ দেয়ার কথা ছিলো,কিন্তুু সেগুলো এখন আমাদের টাকা দিয়ে কিনে নিতে হচ্ছে। এরপর চুলার সমস্যা রয়েছে। বর্তমানে ১/২ জন মানুষ মারা যাচ্ছে তা দিয়ে একটি চুলাতে হয়ে যাচ্ছে,কিন্তুু সামনে আরো ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে।তখন যদি একসাথে ৬/৭ টা লাশ আসে,তখন তা শবদাহ করতে গিয়ে অামাদের হিমশিম খেতে হবে তাই জরুরিভাবে আরেকটা চুলা দরকার। শশ্মানে যদি একটি বৈদ্যুতিক বাল্ব এর ব্যাবস্থা করা হয় তাহলে রাতে যেসব রোগী মারা যান তাদের সৎকার কার্য সম্পাদন করতে পারবে বলেও জানান তিনি।বিস্তারিত ভিডিওতে দেখে নিনঃ-
সনৎ দত্ত মহাশ্মশানের খন্ডচিত্র,Daily local voice
এই বিষয়ে কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য কুমার রাজেন দাশগুপ্ত বলেন,আমরা মুখে সবার কাছ থেকে সব কিছু পাচ্ছি,কিন্তু বাস্তবে কিছু পাচ্ছি না। আমরা নিজেদের ব্যাক্তিগত পক্ষ থেকে এবং যার যার মতো ব্যক্তিগত ভাবে সংগ্রহ করে কাজ চালাচ্ছি। উদাহরণস্বরূপ তিনি বলেন, কমিটির উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য রানা প্রতাপ বণিকের অনুরোধে সাবেক মেয়র মঞ্জু সাহেব শশ্মানে যাওয়ার রাস্তাটা মেরামত করে দিবেন বলে অাস্বস্থ করেন এবং সংগঠনের মূখ্য উপদেষ্টা ডাক্তার যীশু দেব দাদা আজকে ডক্টর এসোসিয়েশন থেকে বেশ কিছু নিরাপত্তা সামগ্রী অনুদান হিসেবে এনেছে।
এ বিষয়ে সংগঠনের মূখ্য সচিব ডাক্তার যীশু দেব বলেন, শুরু থেকে এখনো পর্যন্ত অামাদের স্বেচ্ছাসেবকরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছেন। এর পরেও গাড়ি ভাড়া,কাঠ,ধূপ,কেরোসিন, স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য পিপিই,মাস্ক,গ্লাবস ক্রয় বাবদ অামাদের অনেক টাকা খরচ হচ্ছে যা অামরা ব্যাক্তিগত এবং বিভিন্ন মাধ্যমে কোনরকম চালিয়ে নিচ্ছি। তাই বিত্তবানদের এগিয়ে অাসার পাশাপাশি মাননীয় মেয়র মহোদয় এবং হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে এ ব্যাপারে সদয় দৃষ্টি দেওয়ার জন্য অাহ্বান জানান তিনি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র উপ-প্রেস সচিব-১ আশরাফুল আলম খোকনের পিতা, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন অাজ সকাল ৯ঃ৪০ মিনিটে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার তারাগঞ্জ গ্রামের নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন।
ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ।
অামরা তাঁর অাত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানায়।মহান সৃষ্টিকর্তা তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুক। অামিন
অাশরাফুল অালম খোকন বলেন, আপনারা অনেকেই ফোন করে,স্বশরীরে আমাদের এই দুঃসময়ে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সমবেদনা জানাচ্ছেন।আমরা আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
একটা অনুরোধ থাকবে, পরিবর্তিত পরিস্থিতে “স্বাস্থ্যবিধি” মেনেই আমরা আমার বাবার দাফন কাফনের ব্যবস্থা করছি। এই বিষয়ে আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাচ্ছি। সকলে তাঁর বিদেহী আত্মার জন্য দোয়া করবেন।
নবম দিন থেকে, বাকি সব উপসর্গের সাথে আরম্ভ হলো শ্বাসকষ্ট।
অষ্টম, সপ্তম, ষষ্ঠ দিন গেলো; সে কী প্রাণপণ চেষ্টা আমার, একটু বাতাস নিতে বুকের ভিতরে! হায়, এ-জগতে একমুঠো হাওয়া কি নাই!
আজ থেকে ছয় দিন আগে ঘর থেকে বের করা হয়েছিলো আমাকে-
পুলিশ ছিলো দু’জন, দু’জন স্বাস্থ্যকর্মী ছিলো, ছিলো একটি অ্যাম্ব্যুলেন্স।
আমার মাকে উঠতে দেওয়া হয়নি অ্যাম্বুলেন্সে, আমার বাবাকে আসতে দেওয়া হয়নি আমার সাথে, আমার ভাইকে আটকে দেওয়া হয়েছে ঘরের দুয়ারেই, আমার বোন তখন অজ্ঞান আমার শোকে।