২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত “সনাতন মৈত্রী সংঘ- বাংলাদেশ” সামাজিক ও ধর্মীয় কার্যক্রমের জন্যে বর্তমানে দেশ ও দেশের বাইরে পরিচিত একটি সংগঠন। গত ২৮ মে,২০২০ উক্ত সংগঠনের ১০১ সদস্য বিশিষ্ট চট্টগ্রাম মহানগর শাখার কমিটি ঘোষণা করা হয় ।
প্রকৌশলী রনি সরকারকে সভাপতি, অধ্যাপক রাজীব দত্তকে সহ-সভাপতি,সত্যজিৎ ঘোষকে সাধারণ সম্পাদক ও অস্মীত চক্রবর্তী অমিতকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে আগামী ২০২০-২০২২ সালের জন্যে এই কমিটি ঘোষণা করা হয় ।
মৃত্যু অনিবার্য। প্রতিটি নশ্বরকে মরতে হয় এবং এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে বা এড়াতে পারি না, তবে আমরা সকলেই একই ভাগ্য ভাগ করি। হ্যাঁ, বর্তমান পরিস্থিতি (কোভিড -১৯) অত্যন্ত ভীতিজনক এবং আমাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা আনবে। তবে এটি মানব জাতিকে শেষ করতে পারবে না কারণ আমরা মানুষ হিসেবে ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। আমরা এই পৃথিবীতে শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান প্রাণী। আমরা ইতিমধ্যে অতীতে অনুরূপ বা খারাপ মহামারী থেকে উদ্ধার পেয়েছি। এই মহামারীটি থেকে উদ্ধার পেতে আমাদের একসাথে শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াতে হবে এবং একে অপরকে সমর্থন করতে হবে। আমাদের কেবল আমাদের ভবিষ্যতই চিন্তা করলে হবে না বরং আমাদের আগত প্রজন্মের ভবিষ্যতও নিরাপদ করতে হবে। এটি আমাদের প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। আমাদের এই সত্যটি গ্রহণ করতে হবে যে এই করোনা ভাইরাসটি আমাদের মধ্যে থাকবে এবং সবার জন্য ভ্যাকসিন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে উঠবে। সুতরাং,দরজা ছিটকে মৃত্যুর ভয়ে ভীত হওয়ার কোনও দরকার নেই,আমাদের বিকশিত হতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে যে ভ্যাকসিনটি শীঘ্রই বের হয়ে আসবে।
শীঘ্রই সবকিছু খোলা হবে। শীর্ষস্থানীয় উন্নত দেশগুলি প্রাদুর্ভাবের পর থেকে অর্থনীতিতে বিশাল পতন বা সংঘর্ষের কারণে লকডাউনটি তুলে নিয়েছে। এই করোনার ভাইরাস বৈশ্বিক অর্থনীতিকে হতাশ করছে। এখন পর্যন্ত আমাদের সরকার করোনার ভাইরাস (কোভিড -১৯) এর প্রসারকে কমিয়ে দিয়ে ভ্যাকসিনটি বেরিয়ে আসার জন্য অপেক্ষা করছে,তবে এই লকডাউন চালিয়ে যাওয়া ইতিমধ্যে আমাদের অর্থনীতি এবং আমাদের জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দিয়েছে। পোশাক খাত এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য টেক্সটাইল এবং পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিতে একক বৃদ্ধির একক উৎস সরবরাহ করে। বিশ্বজুড়ে বহু বহু কোটিপতি সংস্থা ইতিমধ্যে দেউলিয়া হয়ছে যা আমাদের অর্থনীতি এবং জনগণকেও প্রভাবিত করবে।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সুযোগ্য কন্যা ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনা Covid 19- এ সমগ্র পৃথিবী যখন মৃত্যুপুরী তখনই তার দূরদর্শিতা এবং দিক নির্দেশনার কারণে,সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের হুমকিতে থাকা অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়৷
আমরা যখন একসাথে থাকি তখন আমরা শক্তিশালী হই। তাই আমি সবাইকে এক হওয়ার অনুরোধ করছি এবং একসাথে এই মহামারীটি লড়াই করুন এবং এটি কাটিয়ে উঠুন। আমাদের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে,প্রার্থনা করতে হবে যেন সমস্ত কিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। সুতরাং আসুন আমাদের সরকারের নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন, একে অপরের থেকে আমাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি এবং মাস্ক,হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইত্যাদির মতো প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি পরিধান বা ব্যবহার করি। আসুন আমাদের নিজের সম্পর্কে সচেতন হই এবং আমাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াই। যদি আপনারা যত্নশীল হন, আমরা কেবল নিজের আত্মাকে নিরাপদ করতে পারি শুধু তা নই আমাদের পরিবারকেও নিরাপদ করতে পারি।
মৃত্যু অনিবার্য। প্রতিটি নশ্বরকে মরতে হয় এবং এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে বা এড়াতে পারি না, তবে আমরা সকলেই একই ভাগ্য ভাগ করি। হ্যাঁ, বর্তমান পরিস্থিতি (কোভিড -১৯) অত্যন্ত ভীতিজনক এবং আমাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা আনবে তবে এটি মানব জাতিকে শেষ করতে পারবে না কারণ আমরা মানুষ হিসাবে ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। আমরা এই পৃথিবীতে শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান প্রাণী। আমরা ইতিমধ্যে অতীতে অনুরূপ বা খারাপ মহামারী থেকে উদ্ধার পেয়েছি। এই মহামারীটি থেকে উদ্ধার পেতে আমাদের একসাথে শক্তিশালী হয়ে দাঁড়াতে হবে এবং একে অপরকে সমর্থন করতে হবে। আমাদের কেবল আমাদের ভবিষ্যতই চিন্তা করলে হবে না বরং আমাদের আগত প্রজন্মের ভবিষ্যতও নিরাপদ করতে হবে । এটি আমাদের প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। আমাদের এই সত্যটি গ্রহণ করতে হবে যে এই করোনা ভাইরাসটি আমাদের মধ্যে থাকবে এবং সবার জন্য ভ্যাকসিন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে উঠবে। সুতরাং, দরজা ছিটকে মৃত্যুর ভয়ে ভীত হওয়ার কোনও দরকার নেই,আমাদের বিকশিত হতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে যে ভ্যাকসিনটি শীঘ্রই বের হয়ে আসবে।
শীঘ্রই সবকিছু খোলা হবে। শীর্ষস্থানীয় উন্নত দেশগুলি প্রাদুর্ভাবের পর থেকে অর্থনীতিতে বিশাল পতন বা সংঘর্ষের কারণে লকডাউনটি তুলে নিয়েছে। এই করোনার ভাইরাস বৈশ্বিক অর্থনীতিকে হতাশ করছে এখন পর্যন্ত আমাদের সরকার করোনার ভাইরাস (কোভিড -১৯) এর প্রসারকে কমিয়ে দিয়ে ভ্যাকসিনটি বেরিয়ে আসার জন্য অপেক্ষা করছে,তবে এই লকডাউন চালিয়ে যাওয়া ইতিমধ্যে আমাদের অর্থনীতি এবং আমাদের জীবনযাত্রার মান কমিয়ে দিয়েছে। পোশাক খাত বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের জন্য টেক্সটাইল এবং পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান অর্থনীতিতে একক বৃদ্ধির একক উৎস সরবরাহ করে। বিশ্বজুড়ে বহু বহু কোটিপতি সংস্থা ইতিমধ্যে দেউলিয়া হয়ছে যা আমাদের অর্থনীতি এবং জনগণকেও প্রভাবিত করবে।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সুযোগ্য কন্যা ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার জননেত্রী শেখ হাসিনা Covid 19- এ সমগ্র পৃথিবী যখন মৃত্যুপুরী তখনই তার দূরদর্শিতা এবং দিক নির্দেশনার কারণে ,সুযোগ্য নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের হুমকিতে থাকা অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়৷
আমরা যখন একসাথে থাকি তখন আমরা শক্তিশালী হই। তাই আমি সবাইকে এক হওয়ার অনুরোধ করছি এবং একসাথে এই মহামারীটি লড়াই করুন এবং এটি কাটিয়ে উঠুন। আমাদের ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে,প্রার্থনা করতে হবে যেন সমস্ত কিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। সুতরাং আসুন আমাদের সরকারের নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন, একে অপরের থেকে আমাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখি এবং মাস্কস, স্যানিটাইজার ইত্যাদির মতো প্রয়োজনীয় আইটেমগুলি পরিধান বা ব্যবহার করি। আসুন আমাদের নিজের সম্পর্কে সচেতন হই এবং আমাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াই। যদি আপনারা যত্নশীল হন, আমরা কেবল নিজের আত্মাকে নিরাপদ করতে পারি শুধু তা নই আমাদের পরিবারকেও নিরাপদ করতে পারি।
মহাকাশ মাঝে জ্যোতির আলোয় গিয়েছে আজিকে ভরি। পুরু-চন্দ্র-পুষ্যমিত্র-গুপ্ত রাজারা আজি, সেই পথবেয়ে রয়েছে উজ্জ্বল শশাঙ্ক-শিবাজী। আরো আরো কত নক্ষত্র মোদের দেখাচ্ছে পথ। এরপরও কি ঘরে বসে থাকা যায়রে নপুংসক!
ঋষিদের দেখানো পথই মোদের একমাত্র সম্বল-‘সত্য সনাতন’ মনুষ্যত্বের মহাবল।
শতহিংসা-দ্বেষ-লাঞ্চনা দিয়ে মুছে দিতে পারেনি যে পথকে স্লেচ্ছ, যবন, তুর্কি, পাঠানের দল।
ধূমকেতুর মতো এসেছিলো যেথা শংকর, রামানুজ, রামানন্দ, গৌরাঙ্গ, রবিদাস,তুলসীদাস, অরবিন্দ, বিবেকানন্দ। আরো, আরো কত নাম শোনাবো তোমাদের আকাশের পানে চাও; যেথা জ্বলজ্বল করে আছে সদা ধ্রুবতারাসম অক্ষয় হিন্দু শ্রেষ্ঠ সন্তানেরা।
মর্ত্যের অমর্ত্য নায়কেরা সমাজ সংস্কারে , ক্লেশ মিটাতে পরশুরাম হয়েছে যারা; সংস্কারের কুঠারে ছিন্ন করেছে সমাজের অকারণ শৃঙ্খলের জঞ্জাল। রামমোহন, বিদ্যাসাগর, বঙ্কিম, তিলক,রবীন্দ্রনাথ এ অক্ষয় পুণ্যপ্রাণদের চিন্তাস্রোত আজও বহমান।
তবে এবার ভয় কি তোদের -‘অমৃতের পুত্রগণ’ রুখে দ্বারা আজ বিদ্যুতবেগে, অমীত দুঃসাহসে ; অমনি দেখবি পালাবে সাপ ভীষণ মরণত্রাসে। ভয়ে হীনবীর্য হয়ে তোরা, চিনতে পারলিনা আপনকে; ব্রহ্মের সন্তান আমরাই যে অমৃতের পুত্র।
পৃথিবীর বুকে আমরাই প্রথম এনেছি বৈদিক সাম্যবাদ। যেথা ঋষিকন্ঠে ধ্বনিত হয়েছিল- ‘সং গচ্ছধ্বং সংবদধ্বং সংবো মনাংসি জানতাম।’
সাম্যবাদের আদর্শের চেতনায় হতে চেয়েছি দেবতা; দুষ্ট অসুরের দল তাকেই মনে করেছে ক্লীবতা। শান্তিপ্রিয় মানবের মাঝে ঝাপিয়ে পড়েছে ; হাতে নিয়ে উলঙ্গ তরবারি। মেরে কেটে গেয়েছে অসুরের জয়গান দিকে দিকে করেছে মানবতার অপমান।
‘উত্তিষ্ঠত জাগ্রত প্রাপ্য বরান্ নিবোধত।’ শ্রুতির এ আহ্বানে জেগে উঠো আজ নিঃশঙ্ক চিত্তে অনন্ত প্রেরণায় ; নিজে উদ্ভোধিত হয়ে, কর জগৎ আলোকময়। এ আকাঙ্ক্ষায় জেগে আছি সদা দিপ্ত প্রহরায় অসুর নাশ করে, কর শুভ শক্তির জয়।
মেঘযুক্ত আকাশে পূর্ণ থাকে পরিস্থিতি আমাদের বর্ষা প্রকৃতি হয়ে উঠে রুপবতী, শ্রাবণের বারিধারায় নামে যখন বর্ষণ সবাই মিলে একসাথে বসে,করতাম বৃষ্টির রুপ দর্শন।।
কুমিল্লায় করোনায় মৃত বিএনপি নেতার লাশ দাফন করেছে উত্তর জেলা ছাত্রলীগ। শুক্রবার দেবিদ্বার উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম ভুইয়া করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফন সম্পন্ন করে ছাত্রলীগের ‘ওরা ৪১ জন’ টিম। শুক্রবার গভীর রাতে হোসেনপুর পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করা হয় জাফরগঞ্জ ইউপির সাবেক দুইবারের এই চেয়ারম্যানকে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবু কাউছার অনিকের নেতৃত্বে ‘ওরা ৪১ জন’ ইতিমধ্যে করোনায় মৃত বিভিন্ন দল-মতের পাঁচজনের লাশ দাফন করেছে। আব্দুস সালাম ভুইয়ার লাশ দাফনে সহযোগিতা করেন জেলা ছাত্রলীগের সদস্য সাদ্দাম হোসেন, ক্বারী সাইফুল ইসলাম, আবু হানিফ সরকার, হাফেজ তোফায়েল আহমেদ, ক্বারী কামাল উদ্দিন, মাওলানা খালিদ ও হাফেজ নাজিম উদ্দিন সরকার।
কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবু কাউছার অনিক জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিব হাসানের ফোন পেয়ে আমাদের ‘ওরা ৪১ জন’ টিম মৃত বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম ভুইয়ার লাশ ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফন করেছি।দল-মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে করোনায় মৃত ব্যক্তিকে আমরা সম্মানের সাথে বিদায় জানানোর চেষ্টা করছি।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড এলাকার ৬ ত্রিপুরা পরিবার পেল প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর। গতকাল দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুহল আমিন নতুন নির্মিত ৬টি ঘর উপকারভোগীদের মাঝে বুঝিয়ে দেন।
পাহাড় পাদদেশে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করা ত্রিপুরা পল্লীর শচীন ত্রিপুরা, সত্যলক্ষী ত্রিপুরা, সম্ভরাম ত্রিপুরা , অনীল ত্রিপুরা, শাওন্তী ত্রিপুরা ও বিষুরাম ত্রিপুরা এ ঘর পেল। ত্রিপুরা পরিবারগুলো প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার পেয়ে বেশ খুশি।
জানা গেছে, উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের এ ত্রিপুরা পল্লীতে প্রধানমন্ত্রীর ৬টি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রনালয়ের ৬টিসহ মোট ১২টি ঘর নির্মাণ কাজ চলছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ৬টি ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, পাহাড়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করা পরিবারগুলোর তালিকা তৈরী করা হয়েছিল। এ তালিকা থেকে যারা বেশি ঝুঁকিতে তাদের মধ্য থেকে ছয় পরিবারকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার নতুন নির্মিত ৬টি ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
করোনা মহামারীতে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। এই অদৃশ্য ভাইরাসে থমকে গেছে সারাদেশ। সারা বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে জ্যামিতিক হারে দেশব্যাপী বাড়ছে আক্রান্তের হার। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবেলায় আর্ত মানবতার সেবায় অনেকেই ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।
বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ভূমিকা সারাদেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়। করোনার প্রাদুর্ভাব দিন দিন যেমন বাড়ছে, তেমন ছাত্রলীগের ব্যতিক্রমী কার্যক্রম নানাভাবে খবরের শিরোনাম হচ্ছে। করোনার শুরু থেকেই বিভিন্ন ভাবে সারা দেশে ছাত্রলীগের কাজগুলো সাধারণ জনগনের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। কখনো অসহায়দের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে, কখনো ধান কেটে দিয়ে, কখনো ইফতার দিয়ে, কখনো রক্ত দিয়ে, কখনো ভালোবাসার উপহার নিয়ে সারাদেশে মানুষের পাশে ছিলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
এবার চট্টগ্রামে কোতোয়ালী থানার অফিসার্স ইনচার্জ জনাব মোহাম্মদ মহসিন’র আহবানে সাড়া দিয়ে প্লাজমা ব্যাংকের সদস্য হলেন সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার রোমন সহ তার ছাত্রলীগের তিন বন্ধু। আর্ত মানবতার সেবায় অন্যের জীবন বাঁচাতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এখন প্লাজমা ব্যাংকের সদস্য হলেন।
আজ দুপুর কোতোয়ালীর থানার অফিসার্স ইনচার্জ জনাব মোহাম্মদ মহসিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘যত গালাগালই করুন না কেন এই দুর্দিনেও এগিয়ে এল সেই ছাত্রলীগই। আমাদের প্লাজমা ব্যাংকের সদস্য হলেন সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার রোমন। তার সাথে যুক্ত হয়েছেন আরও তার তিন বন্ধু- আমিনুল ইসলাম, মনির হোসেন এবং মোঃ এনান। করোনা আক্রান্তকে বাঁচাতে রক্ত দিবেন করোনাজয়ী এই চার ভাই। আর তাদের সমন্বয়ের কাজ করেছেন যুবলীগ নেতা নাছির উদ্দীন মিন্টু ভাই। তাদের সকলের প্রতিই কৃতজ্ঞতা। উনাদের অনুসরণ করুক করোনাজয়ী অন্য ভাইরাও। আপনারাও এগিয়ে আসুন। বাঁচান চট্টগ্রামকে। আপনাদের দিকেই তাকিয়ে চট্টগ্রাম।’
করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের জন্য নগরীর ১২টি জায়গায় বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বেসরকারি সংস্থা ব্রাক এ কাজে সহযোগিতা করছে।
তবে একটি চক্র এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। তারা দলীয় মানুষ হয়েও সরকার ও আওয়ামীলীগকে বিব্রত করার জন্য কাজ করছে। এর পেছনে কি ষড়যন্ত্র রয়েছে তা বের করা সময়ের দাবি হয়ে পড়েছে।
আসুন তবে কিছু সত্য জেনেনি। চট্টগ্রামে “করোনা সেম্পল কালেকশন বুথ” স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কৃতিত্ব দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট টানাপোড়েন নিয়ে কিছু তথ্য-
১) বুথ স্থাপনের কাজে “ব্রাক” কে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতা সংস্থা ডিএফআইডি।
২) বুথ তৈরি করে দিবে দাতব্য সংস্থা “ব্রাক”। বুথ পরিচালকদের প্রশিক্ষণ দিবে “ব্রাক”।
৩) চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বুথ পরিচালক দিবে। বুথসমূহ পরিচালনার যাবতীয় খরচও চসিক দিবে।
৪) বুথসমূহ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সার্বিক ব্যবস্থাপনায় থাকবে। যেমন: স্যাম্পল কালেকশন থেকে টেস্ট সেন্টারে পৌছে দেওয়া। বুথ ডিস-ইনফেকটেড করা সহ আনুষাঙ্গিক।
৫) ইতোমধ্যে ব্রাক ৬টি বুথ দিয়েছে। চসিক মেয়রের আহ্বানে আরো ৬টি বুথ দ্রুত স্থাপিত হবে।
পরিশেষে বলতে পারি বুথ তৈরি ও পরিচালক প্রশিক্ষণের জন্য ” ব্রাক” এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন মাননীয় মেয়র কে ধন্যবাদ।
লেখকঃ সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ।
শ্বাসরুদ্ধকর থ্রিলিং সিনেমার চিত্রনাট্য অথবা গা শিউরে ওঠা কিশোর উপন্যাসের কাহিনীর চেয়ে কোনো অংশেই কম নয় বরং ঘটনাটি নতুন ও প্রাণবন্ত!
সময়: বুধবার,সকাল ১০:০০ টা। স্থান: সুন্দরবন।
বনরক্ষীদের দৃষ্টি এড়িয়ে নেহাত মজা করতে গিয়ে সুন্দরবনের “প্রবেশ নিষেধ” ও “বিপদজনক” এলাকায় ঢুকে পড়ে একদল দূরন্ত কিশোর। কিন্তু তাদের সে মজা বিভীষিকা হয়ে উঠতে বেশি শময় নেয়নি। পথ হারিয়ে বনের গহীনে হারিয়ে গেলো উদ্দাম কিশোরের দল!
সংখ্যায় ওরা ছয় জন–জয়, সাইমুন, জুবায়ের, মাঈনুল, রহিম ও ইমরান। বয়স ১৬-১৭ বছর। দুজন ঢাকায় থাকে। বাকি চারজন গ্রামে। ঈদ উপলক্ষে সুন্দরবনে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করে তারা। যেই ভাবনা, সেই কাজ। পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা বুধবার সকালে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগরে বেড়াতে যায়।
ধানসাগরের লাগোয়া এলাকায় বনরক্ষীদের অফিস রয়েছে। পাশেই একটি ছোট খাল। খালের ওপর ওপাড়ে যাওয়ার জন্য একটি কাঠের পুল রয়েছে। পুলটি সাধারণ মানুষের জন্য নয়। এই সুন্দরবন পাহারা দিতে যে বনরক্ষীরা যান, কেবল তাঁরাই এটি ব্যবহার করেন।
ছয় কিশোর লোক চক্ষুর অন্তরালে পুল পেরিয়ে খালের ওপারে চলে যায়। এরপর গল্প করতে করতে তারা সুন্দরবনের ভেতরে হাঁটতে থাকে। সকাল গড়িয়ে দুপুর হলো, দুপুর গড়িয়ে বিকেল। কিশোরেরা ভুলেই যায় তাদের ঘরে ফিরতে হবে। ততক্ষণে সুন্দরবনের বিপদসংকুল গহীন অংশে ঢুকে পড়েছে উদ্দাম কিশোরের দলটি।
বিকেলে বহু দূরের মসজিদ থেকে ভেসে এলো আসরের আজানের শব্দ। তাদের সম্বিৎ ফেরে! এতক্ষণে তবে ঘরে ফেরার কথা মনে হলো! কিন্তু পৃথিবীর বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বনের কাঁদা-জলে বেড়ে ওঠা শ্বাসমূলের ফাঁকেফাঁকে অপার্থিব রহস্য লুকায়িত রয়েছে। সুন্দরী, কেওড়া, গরান ও হোগলার পরতে পরতে আনন্দ ও মৃত্যু দুটোই আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে ডাকবে।
কিশোরের দল যে পথে ঢুকেছিলো সুন্দরবনে, সে পথ তারা খুঁজে পেলো না। এদিকে-ওদিকে এলেমেলো হাটাহাটি করে চূড়ান্তভাবে পথ হারালো তারা। বন থেকে বেরিয়ে আসার পরিবর্তে উল্টো বনের গহীনে যেতে লাগলো পথের মাঝে পথ হারানো দূরন্ত-উৎসুক কিশোরের দল। এদিকে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। বেরুনোর কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছে না তারা। এবার ওরা রীতিমতো ভীত, বিচলিত ও দিশেহারা।
ছয় কিশোরের সাথে ছিলো তিনটি মুঠোফোন। কিন্তু যে বিশাল বন তার বুক দিয়ে আইলা, সিডর, আম্ফানের মতো প্রলয়ঙ্করী ঝড় আটকে দিয়েছে বারংবার, সেই সুন্দরবনে ইন্টারনেটের তরঙ্গ বাধাগ্রস্ত হবে সেটাই স্বাভাবিক। মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক আসে যায়, আসে যায়। একপর্যায়ে ওরা সমর্থ হলো। ফোন দিয়ে বাড়িতে জানালো তারা বনের গহীনে হারিয়ে গেছে!
দূর্বিনীত কৈশোর বাঁধ মানে না। হারিয়ে যাওয়াদের একজন বুদ্ধি করে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে। নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়ে বনের মধ্যে পথ হারানো কিশোরেরা তাদেরকে উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ জানায়। পুলিশ কন্ট্রোলরুম থেকে সঙ্গে সঙ্গে শরনখোলা থানার সাথে তাকে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। এদিকে নৌ-পুলিশকেও বিষয়টি অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়।
খবর পাওয়া মাত্রই শুরু হয় পুলিশের উদ্ধার অভিযান। কিন্তু বিশাল এই সুন্দরবনে কারো অবস্থান জানা তো সহজ বিষয় নয়। খড়ের গাদায় সুই খোজা? নাহ! এটা তারচেয়েও কঠিন ও ভয়াবহও বটে!
ওদিকে কিশোরদের সাথে থাকা দুটি ফোন চার্জের অভাবে ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। থাকলো বাকি এক। সেটির মাধ্যমেই তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছিলো পুলিশ।
পুলিশের অভয় পেয়ে কিশোরের দল কিছুটা ধাতস্থ হলো এবং অনেকটা নিশ্চিন্ত হলো এ যাত্রায় হয়তো বেঁচে ফেরা সম্ভব হবে। কিন্তু তাদের সেই আশাও ধপ করে নিভে যাওয়ার উপক্রম হলো যখন পুলিশের উদ্ধারকারী দলটি ওদের জানালো ওরা যে এলাকায় হারিয়ে গেছে সেই চাঁদপাই রেঞ্জের ওই অংশে বাঘের চলাচল আছে! সুতরাং হাটাহাটি করা চরম অনিরাপদ। কিশোরদের বনের মধ্যে হাঁটা চলা না করে গাছে চড়ে বসার জন্য পরামর্শ দিলেন তাদের উদ্ধারে বনে আসা পুলিশের সদস্যরা।
কিন্তু যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত পোহায়! কিছু সময় পরই শুরু হলো প্রবল বৃষ্টি। গহীন অরন্যে গুমোট অন্ধকারের সৃষ্টি হলো। এতে আরও ভড়কে গেলো কিশোরেরা। এরমধ্যেই আবার তাদের ফোনের নেটওয়ার্কও চলে গেল!
এই রকম মুশলধারে বৃষ্টি নামলে আর সাথে থাকা মুঠোফোনগুলো সেবা দেওয়া বন্ধ করে দিলে সমতলের যেকোনো অপরিচিত জায়গায়ও রীতিমতো ভয় পেতে পারতো আমাদের এই কিশোরের দলটি। জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ কথাটা যে সুন্দরবনকে ঘিরে প্রচলিত হয়েছে কিশোরের দলটি ততক্ষণে হাড়েহাড়ে টের পেয়েছে।
ইতোমধ্যে সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত নেমেছে পৃথিবীর অন্যতম দূর্ভেদ্য ও ভয়ংকর এই বনরাজিতে। বাচ্চাদের খুঁজে বের করতে পুলিশও মরিয়া হয়ে ঘুরছে জঙ্গলময়। পুলিশের সদস্যরা নির্ভিক। বন্দুকের ম্যাগাজিন ফুললি লোডেড অবস্থায় এগিয়ে যাচ্ছেন মুঠোফোনে বলা ওদের সম্ভাব্য অবস্থানের দিকে। সতর্ক পুলিশ। যেকোন মুহূর্তে তাঁদের ওপর ঝাপিয়ে পড়তে পারে সুন্দরবনের বেরসিক রাজকীয় পাহারাদার!
ওদিকে গহীন সুন্দরবনের ঘুটঘুটে অন্ধকারে পথ চলা কঠিন। পুলিশের লোকজন হারিয়ে যাওয়াদের মোবাইলে কলের পরে কল করে যাচ্ছেন কিন্তু সংযোগ পাওয়া যাচ্ছেনা। বহু চেষ্টায় পুলিশ তাদের সাথে পুনরায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন।
কিন্তু পথঘাট না চেনা ও দিক বলতে অক্ষম অপরিপক্ব বেয়াড়া পর্যটকদের উদ্ধারে পুলিশ একটু ভিন্ন কৌশল বেছে নিলেন। সুন্দরবনের ওই অঞ্চলে একটা ছোট্ট মসজিদ ছিলো। পুলিশের নির্দেশে মসজিদের লাউডস্পিকারে শব্দ করা হলে তা শুনতে পায় পথহারা বালকেরা। ওদের কান উদ্দীপ্ত হয়, চোখ চিকচিক করে ওঠে।
কিন্তু সমস্যাটা হলো বনের ওই এলাকার পাশের লোকালয়ে দুই পাশে দুটি মসজিদ আছে। কাজেই কোন মাইকের শব্দ তারা শুনতে পেলো, সেটি জানতে পারলে তাদের অবস্থানের ব্যাপারে কিছুটা ধারণা পাওয়া যাবে। এবার একপাশের মসজিদের মাইক দিয়ে তাদের ডাকা হলো। আর ফোনে জানতে চাওয়া হলো, আওয়াজ শোনা যায় কিনা? জবাব এলো, খুবই কম। এবার বনের অন্য পাশের মসজিদের মাইক দিয়ে ডাকা হলো। এবার মোবাইল ফোনে কিশোরেরা জানালো, তুলনামূলক স্পষ্ট শব্দ শুনতে পাচ্ছে তারা। এটার মাধ্যমে বনের মধ্যে তাদের অবস্থানটি কিছুটা আঁচ করে নিলেন পুলিশের উদ্ধারকারী দলটি। সুন্দরবনের ভেতরে স্বাভাবিকভাবে ৩-৪ কিলোমিটার পর্যন্ত শব্দ শোনা যায়। তবে রাতের নিস্তব্ধতা পেরিয়ে শব্দ আরও গহীন থেকে শোনা যায়। তাই সুন্দরবনের ৪-৫ কিলোমিটার ভেতরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এগুতে থাকে পুলিশ।
আগেই বলেছিলাম সুন্দরবনের ভেতর হাঁটা সহজ নয়। কেওড়ার শ্বাসমূলের সাথে লতাগুল্ম, ঝোপঝাড় আর নানান ধরনের কাঁটা। বনের অন্ধকারের সাথে সমানে চলছিলো বৃষ্টিপাত। পিচ্ছিল পথে এক কণ্টকাকীর্ণ যাত্রা। কয়েক ঘন্টা ধরে সেই পথ পাড়ি দিয়ে বনের আরও ভেতরে যেতে থাকলেন জেদী পুলিশের লোকজন। বাঘের ভয় এখন আর নেই, বাচ্চাদের উদ্ধার করে নিরাপদে বাড়িতে পাঠানোই একমাত্র চিন্তার বিষয়।
বনের গহীনে হাটতে হাটতে পুলিশের দলনেতা ফোনে ওই কিশোরদের বললেন, “আমরা হাঁক তুলবো। যদি তোমরা শুনতে পাও তো তোমরাও হাঁক তুলবে যাতে আমরা বুঝতে পারি তোমরা আমাদের আশেপাশেই আছো।”
যেই কথা সেই কাজ। পুলিশ বনের মধ্যেই হাঁটতে হাঁটতে হাঁক তুললো। কিন্তু ওই পাশ থেকে সাড়া নেই। ঘন্টা খানেক পর ওপাশ থেকেই হাঁকের জবাব এলো। এ যেন নিকোশ কালো অন্ধকার শেষে সুড়ঙ্গের ওপাশে মৃদু আলো দেখার মতো বিস্ময়কর ও বহু কাঙ্খিত শব্দের অনুরণন। এবার পুলিশও বুঝতে পারলেন, উদ্ধারকারী দল আর পথহারানো কিশোরদের মাঝে সরলরেখা বরাবর দূরত্ব ক্রমশ কমতে শুরু করেছে এবং এক সময় দূরত্ব শূন্যে বিন্দুতে এসে ঠেকলো। হারিয়ে যাওয়া কিশোরদের খুঁজে পাওয়া গেলো অবশেষে। ঘড়ির কাটা তখন রাত ৩:০০ টা নির্দেশ করছে। প্রায় দশ ঘন্টার উদ্ধার অভিযানের সফল পরিসমাপ্তি ঘটলো।
দিন ও রাতের বেশিরভাগ সময়ে বনের মধ্যে আটকা পড়া ভীত, তটস্থ, ক্ষুধার্ত ও দিশেহারা কিশোরের দলটি ততক্ষণে ভারমুক্ত হলো পুলিশের কাঁধে। ওদের কপাল ভালো বাঘের পেটে যেতে হয়নি! সুন্দরবনের বাঘেরা কতদিন মাংসের স্বাদ পায়না কে জানে!
প্রতিকূল পরিবেশে থেকে মুষড়ে পড়েছিলো কিশোরেরা। পুলিশ ধরাধরি করে তাদের নিয়ে থানায় ফিরতে ফিরতে রাত পেরিয়ে ভোর। অনেকক্ষণ কিছু না খেতে পেরে আরও ক্লান্ত কিশোরেরা। থানায় এনে প্রাথমিক শুশ্রূষার পাশাপাশি খাবার দেওয়া হলো ওদের। এরপর “নিরাপদে বাঘের মুখ থেকে প্রাণে ফিরে আসার” স্বীকৃতি হিসেবে সকালে মিষ্টিমুখ করিয়ে কিশোরদের যার যার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হলো।
সন্তানদের ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের চোখে আনন্দ অশ্রু। সন্তানকে বুকে জড়িয়ে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য প্রাণভরে দোয়া করলেন তাঁরা। জানালেন অশেষ কৃতজ্ঞতা। থানা থেকে বিদায়বেলা হারিয়ে যাওয়া দলের এক সদস্য জয় থমকে দাঁড়ালো। পুলিশকে লক্ষ্য করে জয়ের কন্ঠে ঝরে পড়লো কৃতজ্ঞতা।
“বনের ভেতরে যখন হারিয়ে গিয়েছিলাম, তখন বারবার মনে হয়েছে এ জীবনে আর ফেরা হবে না। কিন্তু পুলিশের কারণে আমরা ছয়জন আবার নতুন জীবন পেলাম। আমি পড়াশোনা করে পুলিশ হতে চাই। বিপদে এভাবেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।”
জয় লেখাপড়া শিখে পুলিশে আসুক। পুলিশ সদস্যরা যেমন ওর বিপদে পাশে দাড়িয়েছেন, সেও তেমনি একদিন মানুষের বিপদে বুক চিতিয়ে দাঁড়াক। ওর জন্য শুভকামনা রইলো।
গহীন বন থেকে ঘুরে এলেও বাঘ ওদের ছুঁতে পারেনি বরং বাঘের হাত থেকে উদ্ধার করে পুলিশই কোলে কাঁধে করে ওদের লোকালয়ে নিয়ে আসলেন, আদর করে খাওয়ালেন, মিষ্টিমুখ করালেন। কিন্তু লোকে যে বলে আসছে বাঘে ছুটে ১৮ ঘা আর পুলিশ ছুলে ৩৬ ঘা!
সুন্দরবনের বাঘের মুখ থেকে ফিরে এসেও বিষয়টির কূলকিনারা পেলো না বনে পথ হারিয়ে যাওয়া কিশোরের দলটি!
সূত্রঃ বাংলাদেশ পুলিশ ছবিঃ সংগৃহীত অনুলিখন, সম্পাদনাঃ ডিএমপি নিউজ
করোনার ভয়ে যখন সারা বিশ্ব থমকে দাঁড়িয়েছে তখন একদল সনাতনী তরুণ করোনায় আক্রান্ত মৃত মৃতদেহ সৎকারে এগিয়ে এসেছে। তারা তাদের সংগঠনের নাম দিয়েছে “করোনা মৃতদেহ সৎকার সেচ্ছাসেবক সংঘ,চট্টগ্রাম”। তারা প্রতিনিয়ত স্বার্থহীন ভাবে কাজ করে যাচ্ছে । তাদের আজকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হচ্ছে এই প্রতিবেদনে।
Daily Local Voice
সকাল ৮টা নাগাদ করোনা মৃতদেহ সৎকার সেচ্চাসেবক সংঘের আহবায়ক সুমন পাল এর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ করোনা বিভাগ প্রাঙ্গণে তাদের নিজস্ব গাড়ি যোগে উপস্থিত হই অামরা।গতকাল করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করা মৃত দেহটি নিয়ে নির্ধারিত শ্মশান ঘাটে চলে যাই।পরবর্তীতে সেচ্চাসেবক সংঘের সদস্য বিশাল দেব,শুভ দাস,সুমন দাস ও রাম দেব দাহ স্থান পরিদর্শন করে এসে মৃতদেহ নিয়ে শশানঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।অামাদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছিলেন সেচ্ছাসেবক সংঘের সদস্য দোলন ধর এবং সহযোগীতায় ছিলেন অজয় দত্ত।মৃতদেহ দাহ স্থানে নেওয়ার সময় অামরা বরাবরের মতো সমস্যার সম্মুখীন হই।কর্দমাক্ত পিচ্ছিল উঁচুনিচু রাস্তা দিয়ে তাদের মৃতদেহ দাহ স্থানে নিয়ে যেতে হয়। মৃতদেহটির দাহ শেষ না হতেই ফোন আলাপের মাধ্যমে অামাদের জানানো হয় যে শ্মশান ঘাটে আরেকটি করোনাই আক্রান্ত মৃতদেহ আসছে অামরা যেনো সেখানেই অবস্থান করি এবং অামাদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে একই সংঘের আরো কিছু সদস্য।যথারীতি ২টি মৃতদেহ সৎকার সম্পন্ন করা হয় এবং ফিরে আসি চির চেনা সেই শহরে যে পরিচিত শহর কিনা আজ অসুস্থ। ধন্যবাদ জানাই সেসব বীরদের যারা তাদের জীবন বাজি রেখে মৃত করোনা রোগীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে।