নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন পাথরঘাটাস্থ চট্টগ্রাম মহানগরী সৎসঙ্গের উদ্যোগে আজ ২য় ধাপে পাথরঘাটা সিটি কর্পোরেশন কলেজ প্রাঙ্গণে বৈশ্বিক মহামারী করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে হতদরিদ্র, নিম্নমধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত ৫০০ পরিবারের মধ্যে উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।
চট্টগ্রাম মহানগরী সৎসঙ্গ ” এর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রথম ধাপে আরো ২০০ পরিবারের মধ্যে (নিজ নিজ বাসায়) উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরী সৎসঙ্গ ১৯৮৯ সালে পাথরঘাটা এলাকায় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে পরমপ্রেমময় শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের আদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে দেশের যে কোন দূর্যোগকালে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সেবায় কাজ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ উপহার সামগ্রী প্রদান উপ-কমিটির আহবায়ক বিশিষ্ট সংগঠক ও সমাজকর্মী প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ মহোদয়ের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক অমিতাভ চৌধুরী বাবু’র সঞ্চালনায় দ্বিতীয় ধাপে আরো ৫০০পরিবারের মধ্যে উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আন্দরকিল্লা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাবু জহর লাল হাজারী, সংগঠনের সভাপতি দিলীপ দাশগুপ্ত, কাউন্সিলর পদপ্রার্থী বাবু পুলক খাস্তগীর ও মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী রুমকী সেনগুপ্ত, সংগঠনের সহ সভাপতি প্রনবজ্যোতি বিশ্বাস, ডাঃ সন্তোষ কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক হিরোজিত চৌধুরী, বাবু সুনীল দাশ, সৃষ্টি টিভির ভাইস চেয়ারম্যান কাঞ্চন আচার্য্য, মোহাম্মদ হোসেন, দোলন আইচ, শিবু দত্ত,পাপড়ী দাশ, বিশ্বজিত সরকার,প্রনতেষ চৌধুরী, প্রিয়তোষ মল্লিক প্রমূখ।
সিনজি গাড়ি চালক কে ফল বিতরণ করছেন তন্ময়। News Desk : Daily Local Voice
কোতোয়ালী থানা ছাত্রলীগনেতা তন্ময় সেন শিবুর নেতৃত্বে গত ২০ দিন যাবৎ হতদরিদ্র রিক্সা, ভ্যানগাড়ি ও সিএনজি চালকদের মাঝে ফল বিতরন করা হয়।
নগরীর লালদীঘি,কে.সি.দে রোড এবং টেরীবাজারস্থ বিভিন্ন এলাকার ভাসমান অসহায় প্রায় ২৫০ জন রিক্সা,ভ্যানগাড়ি ও সিএনজি চালকদের মাঝে ফল বিতরণ করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ২ টি আপেল, ১টি আম ও ২৫০ গ্রাম আঙ্গুর।
সিনজি গাড়ি চালক কে ফল বিতরণ করছেন অতীশ। Daily Local Voice
এই বিষয়ে তন্ময় সেন শিবু বলেন, অামার স্বাদ আছে কিন্তু সাধ্য আমার ক্ষুদ্র। আমি বিশেষ কেউ না,আমিও সাধারণ পরিবারের একজন সন্তান। আমি আমার জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব অসহায়দের পাশে থাকার চেষ্টা করছি এবং ভবিষ্যতেও পাশে থাকব।
তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ১১ জুন শুধু শেখ হাসিনার কারামুক্তি নয়, গণতন্ত্রেরও মুক্তি দিবস।
শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবসে’র দ্বাদশ বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামীলীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের এই দিনে দীর্ঘ ১১ মাস কারাভোগের পর মুক্ত হন। এদিনটি প্রকৃতপক্ষে শুধু শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস নয়, গণতন্ত্রেরও মুক্তি দিবস। কারণ, তিনি সারাজীবন ধরে গণতন্ত্রের জন্য ও মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেছেন।
‘২০০৭ সালে যেদিন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে বন্দী করা হয়েছিল, সেদিন শুধু তাকেই নয়, গণতন্ত্রকেও বন্দী করা হয়েছিল’ বলেন তথ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী এসময় শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অগ্নিবীণা হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘শেখ হাসিনা যেভাবে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তা বিশ্বের সামনে এক অনন্য নেতৃত্বের উদাহরণ। তিনি আজ শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, আওয়ামী লীগের সভাপতি নন, তিনি বিশ্বনেতার আসনে আসীন।’
এর আগে দিবসটিকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া অনুষ্ঠানে অাওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, অাব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, অা.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা অাজম, বি.এম মোজাম্মেল হক, এস.এম কামাল হোসেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাঃ রোকেয়া সুলতানা ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন। পরে অাওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও মঙ্গল কামনা এবং দেশ ও বিশ্বকে করোনা থেকে মুক্তির জন্য মুনাজাত করা হয়।
রংপুর জেলার আটটি থানা ও দু’টি তদন্ত কেন্দ্রের এবং পুলিশ লাইন্স এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুখ-দুঃখের ফেরিওয়ালা হচ্ছেন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর আইডল, মানবিক পুলিশ সুপার, রংপুর জেলার সুযোগ্য অভিভাবক, জনাব বিপ্লব কুমার সরকার, বিপিএম-বার, পিপিএম, পুলিশ সুপার, রংপুর।
পুলিশ সুপার রংপুর মহোদয়, তিনি রংপুর জেলা পুলিশের নির্বাহী ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি থানা তদন্ত কেন্দ্র এবং পুলিশ লাইন্সে করোনার থাবা লাগার শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত সারা দিনরাত অফিসার ও ফোর্সদের জন্য সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর রাখছেন। কোন পুলিশ সদস্য এবং পুলিশ সদস্যের পরিবারের ও কেহ আক্রান্ত হলে সাথে সাথে তাকে হসপিটালে পাঠাচ্ছেন; সাহস যোগাচ্ছেন; বাসায় কিভাবে চিকিৎসা নিতে হয় তার পরামর্শ দিচ্ছেন। এমনকি প্রয়োজনীয় ঔষধও পাঠাচ্ছেন মানবিক পুলিশ সুপার রংপুর মহোদয়।
এছাড়াও পুলিশ সুপার রংপুর মহোদয় অফিশিয়াল দাপ্তরিক কাজের ব্যস্ততার মধ্যেও যেভাবে জেলা পুলিশ সদস্যদের খোঁজ খবর রাখেন ও সেবা প্রদান করেন তা বিরল ঘটনা।
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ। দীর্ঘ প্রায় ১১ মাস কারাভোগের পর ২০০৮ সালের ১১ জুন সংসদ ভবন চত্বরে স্থাপিত বিশেষ কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। সেনাসমর্থিত ১/১১-এর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই গ্রেফতার হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কারাগারে থাকাকালে শেখ হাসিনা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। সে সময় চিকিৎসার জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে তার মুক্তির জোরালো দাবি ওঠে। আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য সহযোগী সংগঠন ও দেশবাসীর আন্দোলন, আপোষহীন মনোভাব এবং অনড় দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। কারামুক্তির পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার নেতৃত্বে অংশ নিয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় আওয়ামী লীগ। এরপর সরকার গঠন হলে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন।
এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। শেখ হাসিনাও টানা তৃতীয়বারসহ চতুর্থবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে প্রতিবছর নানা আয়োজনে দিনটি পালন করে থাকে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলো। কিন্তু এ বছর বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে সৃষ্ট সঙ্কটে শেখ হাসিনার নির্দেশে সবধরনের জনসমাগমপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচী পরিহার করায় কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন করছে না দলটি। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যার যার জায়গা থেকে শেখ হাসিনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে পরম করুণাময়ের কাছে দেশবাসীকে প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছে আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকল বাঙালী হৃদয়ে দেশপ্রেমের বহ্নিশিখা প্রজ্বলিত করে সঙ্কট জয়ের ঐক্যবদ্ধ সুরক্ষা ব্যুহ সৃষ্টি করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারকে সহযোগিতা করারও অনুরোধ জানিয়েছে দলটি।
ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ-ছাত্রসংসদের কর্মসূচির অংশ হিসেবে করোনার চিকিৎসা সেবা সহ সব ধরণের ঔষধ মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ৩৩ নং ফিরিঙ্গী বাজার ওয়ার্ড এর বিভিন্ন ঔষধ এর ফার্মেসিতে তদারকি করেন ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মোঃ আশিকুজ্জামান সহ অন্যান্যরা।
এসময় উপস্তিত ছিলেন ছাত্রলীগ নেতা জয় ভট্টাচার্য, অতুনু চক্রবর্তী, সবুজ দাশ, মোঃ আরিফ প্রমুখ।
এ সম্পর্কে ছাত্রনেতা মোঃ আশিকুজ্জামান “ডেইলি লোকাল ভয়েস” কে বলেন, ঔষুধের চাহিদা বৃদ্ধির এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ফার্মেসি গুলোতে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি দামে ঔষুুধ বিক্রি করছে তাই ফার্মেসী দোকানদারদের কাছে ছাত্রসমাজের অনুরোধ, এ দুর্দিনে আপনারা সাধারণ মানুষ কে আপনাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সাহায্য করবেন আর ঔষধ দরকার হলে বিক্রি করবেন না তারপর ও বেশি দামে বিক্রি করা থেকে বিরত থাকুন। আসুন আমরা মানবিক হই। কারণ শুধু মাত্র মানবিকতাই পারে, এই মহামারী থেকে পরিত্রাণ দিতে।
বাঁশখালীর সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম এডভোকেট সুলতানূল কবির চৌধুরীর ছোট ভাই, বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান চৌধুরী মোহাম্মাদ গালিব সাদলী’র চাচা,চট্টগ্রাম আইন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আমিনুল নিজামী রিফাত এর পিতা নেজাম উদ্দিন চৌধুরী ইন্তেকাল করেছেন।
ইন্না-লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাহি রাজিউন
তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান চৌধুরী মোহাম্মাদ গালিব সাদলী।
তিনি বলেন, অামার মরহুম পিতা এডভোকেট সুলতানূল কবির চৌধুরীর ছোট ভাই, অামার ছোট চাচা নেজাম উদ্দিন চৌধুরী মহোদয়ের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোক প্রকাশ করছি এবং মরহুমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
অাল্লাহ্ অামার ছোট চাচাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন, অামিন।
নগরীর আগ্রাবাদের সিটি কনভেনশন হলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও অর্থায়নে প্রস্তুত করা ২৫০ শয্যার করোনা আইসোলেশন সেন্টার ১৫ জুন চালুর ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করতে হবে। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে চসিক আইসোলেশন সেন্টারের জন্য চিকিৎসক, নার্স, বয় নিয়োগসহ তাদের সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজনের প্রস্তুতি সুসম্পন্ন করা হয়েছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহমদ, মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, বিএমএ সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান, সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, চসিক প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, আইটি অফিসার ইকবাল হাসান, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য গবেষক ডা. সুশান্ত বড়ুয়া, মেমন মাতৃসদন হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. প্রীতি বড়ুয়া, ডা. মোহাম্মদ আলী, ডা. রবিউল করিম, ডা. নাসিম ভূইয়া, চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক ও আবু সাদাত মো. তৈয়ব প্রমুখ।
বিকেলে মেয়র আগ্রবাদের সিটি কনভেনশন হলের প্রস্তাবিত ২৫০ শয্যার করোনা আইসোলেশন সেন্টার পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
করোনা মহামারীতে মানবিক চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে চট্টগ্রামবাসীর পাশে দাড়াতে বন্দর, কাস্টমসসহ কর্পোরেট শিল্পগ্রুপের নিকট উদাত্ত আহবান জানিয়েছেন জনদুর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই শীর্ষক নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। তিনি (৭ই জুন ২০২০ইং) রবিবার সকাল ১১ ঘটিকায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে নাগরিক উদ্যোগ আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই সব কথা বলেন।
এ সময় জনাব সুজন বলেন, চট্টগ্রামের ভৌগলিক অবস্থানগত সুযোগ সুবিধার উপর গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিন্ড চট্টগ্রাম বন্দর। বাংলাদেশ সম্পদের সমৃদ্ধির উচ্চশিখরে আরোহণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের হাত ধরেই। এই বন্দরের আয় দিয়েই দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। বন্দরের উন্নতি মানেই পুরো দেশের উন্নতি। তাই চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়নে গর্ববোধ করে চট্টগ্রামের আপামর মানুষ। এছাড়া চট্টগ্রাম কাস্টমসও দেশের উন্নতির পিছনে অর্থনৈতিক যোগান দেওয়া একটি প্রতিষ্ঠান। দেশের সিংহভাগ আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম কাস্টমসেই। তাই চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপশি কাস্টম হাউসও দেশের অর্থনীতিতে প্রতিনিয়ত অর্থের যোগান দিয়ে দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ভৌগলিক অবস্থানের কারণে আমাদের বাপ-দাদার ভিটেমাটি অধিগ্রহণ করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ছোট বড় শিল্প মিল কারখানা। যারা চট্টগ্রামে তাদের শিল্প প্রতিষ্টানসমূহ পরিচালনা করে কোটি কোটি টাকা আয় করছে। চট্টগ্রামের আয় দিয়ে তারা দেশের অন্যান্য জেলায়ও তাদের ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ করেছে। এমনকি দেশের বাহিরেও অনেক শিল্প প্রতিষ্টানের ব্যবসা বাণিজ্য বিস্তৃত। তাদের এ উন্নতি মানেই চট্টগ্রামবাসীর উন্নতি এ কথা মনে প্রাণে বিশ্বাস করতাম আমরা। অথচ বর্তমান করোনাভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য সেবায় তাদের নির্লিপ্ততা আমাদেরকে দারুনভাবে হতাশ করেছে। একসময় যে চট্টগ্রামবাসী গর্ব করতো চট্টগ্রামের বড়ো বড়ো কর্পোরেট হাউসগুলো চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পসহ সামগ্রিক উন্নয়নে এগিয়ে আসবে সেই চট্টগ্রামবাসীই এখন ঐসব শিল্পগ্রুপের অমানবিক নিস্পৃহতায় ক্ষোভে পুড়ছে। কিন্তু চাইলেই এসব শিল্প প্রতিষ্টানের জন্য চট্টগ্রামবাসীর স্বাস্থ্য সেবায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা কোন কঠিন বিষয় না। যারা একসময় সামান্য পারিবারিক অনুষ্টানে নিমিষেই খরচ করতো কোটি কোটি টাকা। তাদের বাহারি বিলাসিতায় হতবিহ্বল হয়ে পড়তো চট্টগ্রামের মানুষ। আজ চট্টগ্রামের চিকিৎসা ব্যবস্থার মুমূর্ষু এ অবস্থায় তারা নিশ্চুপ। তাদের নির্লিপ্ততা চট্টগ্রামবাসীর হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করছে। এছাড়া আমরা প্রায়শই দেখি যে পবিত্র রমজান, পূজা কিংবা অন্য কোন উপলক্ষ্য আসলেই যারা সিন্ডিকেটভ‚ক্ত হয়ে পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে জনগনের পকেট কাটতো আজ তারা নেই। তারা কি এখন সিন্ডিকেটভূক্ত হয়ে চট্টগ্রামবাসীর স্বাস্থ্য সেবায় কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেন না? তাদের কি কোন নৈতিকতা নেই? তাছাড়া চট্টগ্রাম চেম্বারের নিশ্চুপতাও আমাদেরকে গভীরভাবে ব্যথিত করে। যারা পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি হয়ে যখন দুইশত টাকা হয় তখন তারা নিশ্চুপ থাকে আবার পেঁয়াজের দাম যখন কমে পঞ্চাশ টাকা হয় তখন তারা ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করতে উঠেপড়ে লাগে। এভাবে তারা প্রতিনিয়তই নগরবাসীর সাথে ছলনার আশ্রয় নেয়। তারা চাইলেই চট্টগ্রামের শিল্পগ্রুপগুলোকে একীভূত করে মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে আসতে পারে কিন্তু তাদের রহস্যজনক নির্লিপ্ততা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত ভাবিয়ে তুলছে। এখন স্বাভাবিকভাবেই চট্টগ্রামবাসীর মনে প্রশ্ন চট্টগ্রামের ভৌগলিক অবস্থা ব্যবসা বাণিজ্যের উজ্জ্বল পরিবেশকে ব্যবহার করে তারা বছরের পর বছর নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করলেও চট্টগ্রামবাসীর জন্য তাদের কোন মায়া মমতা নেই। চট্টগ্রামবাসীর জন্য কোন সময়ই তাদের প্রাণ কাঁদে না। তারা চট্টগ্রাম থেকে টাকা আয় করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শান্তির সেকেন্ড হোম বানিয়েছে কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে করোনা তাদেরকে সে সব সেকেন্ড হোমে যাওয়ার পথও রুদ্ধ করে দিয়েছে। করোনা আমাদেরকে উপলব্দি করার সুযোগ দিয়েছে আগে মাতৃভূমিকে ভালোবাসুন, মানবিক হোন।
জনাব সুজন চট্টগ্রামের সকল শিল্পগ্রুপকে প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজ উদ্যোগে চট্টগ্রামবাসীকে এ মহামারী থেকে বাঁচানোর প্রয়াস গ্রহণ করার উদাত্ত আহবান জানান। তিনি আরো বলেন প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই আপনাদেরকে ব্যবসা বাণিজ্যের সুন্দর পরিবেশ উপহার দিয়েছেন, সহযোগীতা দিয়েছেন তাই আপনাদেরও উচিত এ মূহুর্তে প্রধানমন্ত্রীর পাশে দাড়ানো।
এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত সকল ক্যাটাগরীর শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় করোনা পরীক্ষা করানোর জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের নিকট উদাত্ত আহবান জানান তিনি। তাছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের আশেপাশের অধিবাসীর জন্য বন্দর হাসপাতালে বিশেষ স্বাস্থ্য সেবা চালু করা, বন্দর হাসপাতালে অতিসত্বর করোনা ইউনিট চালু এবং চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে করোনা চিকিৎসায় সম্পূর্ণ ব্যয়ভার গ্রহণ করার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।