মানবতার সেবায় ছাত্রনেতা হৃদয় কুমার দাশ।

News desk: Daily local voice

অর্নব দাশ,প্রতিনিধি,দৈনিক লোকাল ভয়েস

দেশের করোনার মতো ভয়াবহ ভাইরাসের প্রকোপে যখন বিশ্ববাসী অভিশপ্ত জীবন জীবনযাপন করছেন, ঠিক এই পরিস্থিতিতে নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বন্দর থানার অন্তর্ভুক্ত আশেপাশের এলাকায় সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা হৃদয় কুমার দাশ।সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশের জন্য মানবতার সেবায় এগিয়ে আসেন বন্দর থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হৃদয় কুমার দাশ। দেশ করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার পর থেকেই খেটে খাওয়া মানুষের চরম ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।তাই অসহায় ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষদের পাশে দাড়াতে মহামারীর শুরু থেকেই বিভিন্ন ভাবে সাধারণ মানুষের মাঝে উপহারসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন উদীয়মান এই ছাত্রনেতা।

এই প্রসঙ্গে হৃদয় কুমার দাশ বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সংগ্রামী সদস্য প্রিয় নেতা দেবাশীষ পাল দেবু দাদা এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী পরিষদ (সিবিএ)এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নায়েবুল ইসলাম ফটিক ভাইয়ের অনুপ্রেরণায় খেটে খাওয়া,পথে থাকা,গরীব ও দুস্থ রোজাদার মানুষদের মাঝে ৩ দিন যাবৎ ইফতার বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করি।সকল বিত্তবানদের প্রতি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে একটা অনুরোধ থাকবে যে তাঁরাও যেন নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে আসেন।আমাদের সবার মনে রাখতে হবে যে, আমরাও মানুষ আর পথে যাঁরা জীবনযাপন করছেন তাঁরাও মানুষ।তাই মানুষ হিসেবে কি আমরা মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি না? আমাদের সবার মধ্যেই মনুষ্যত্ব রয়েছে।তাই আসুন মানবতার সেবায় এগিয়ে আসি। এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন বন্দর থানা ছাত্রলীগ নেতা রাশেদুল আলম ইমু, মোঃসাইফুল ইসলাম, জামাল হোসেন,শামীম,আরফিন, জীবন,আবু সাইফ,শেখ সাকিব,মোঃদেলোয়ার,
মোঃজুয়েল,মোঃশরিফ,মোঃ ফাহিম,হোসেন রাজু,পলাশ চক্রবর্তী,সুজন দাশ, মোঃরিফাত,শুভ,পাবেল,রবিন,
মহসিন,জাহিদ সহ প্রমুখ।

সবশেষে তিনি বলেন, আমাদের এই কার্যক্রম পুরো মহামারী ব্যাপী চলমান থাকবে এবং আমরা আশা করছি সবাই আমাদের পাশে থেকে সাহায্য করে যাবে এবং আমরা যাতে সুস্থভাবে এই মহামারী মোকাবেলা করতে পারি সেজন্য সবার প্রার্থনা কামনা করছি।

আলকরন স্পোর্টিং ক্রিকেট ক্লাবের উদ্যোগে খেলোয়াড়দের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ।

News desk:Daily local voice
প্রতিবেদকঃ অর্ণব দাশ

২১শে মে,বৃহস্পতিবার বিকাল ৩.০০ ঘটিকার সময় অালকরন স্পোর্টিং ক্লাবের অাহবায়ক মোজাহের অালমের ব্যাবস্থাপনায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে খেলোয়াড়দের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন। উপহার সামগ্রী বিতরনের সময় উপস্থিত ছিলেন অালকরন স্পোর্টিং ক্লাবের উপদেষ্টা মোহাম্মদ সোহেল রানা, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন অাহমদ ও শাহ নেওয়াজ রাজিব।

এসময় অারো উপস্থিত ছিলেন, ক্লাবের যুগ্ম-অাহবায়ক মোহাম্মদ অাব্দুল রউফ রকি, সাবেক যুগ্ম-অাহবায়ক অারিফুর রহমান অারিফ, সিনিয়র খেলোয়ার অামজাত হোসেন রুবেল সহ বর্তমান খেলোয়াড় রায়হান,অাশু,অানন্দ,জিফা, ইফতু প্রমুখ।
মোজাহের বলেন,এই সংকটকালীন সময়ে খেলোয়াড়দের পাশে থাকতে পেরে আমাদের ভালো লাগছে এবং যারা অামাদের সহযোগিতা করেছেন তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।

চকবাজার থানাও পিছিয়ে নেই মানব সেবায়

News desk: Daily local voice

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সুদীপ্ত অাকাশ রাজন

চকবাজার থানাও পিছিয়ে নেই মানব সেবায়

মাননীয় শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপির সৌজন্যে, সিএমপি’র দক্ষিণ জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার বিপিএম(বার),পিপিএম(বার) এস.এম মেহেদী হাসানের নির্দেশে
চকবাজার থানার অাওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় অসহায়,দুস্ত ও কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন চকবাজার থানার তদন্ত ওসি রিয়াজ চৌধুরী।

রিয়াজ চৌধুরী বলেন,সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দুস্ত,অসহায় মানুষের তালিকা তৈরী করে ঘরে ঘরে পৌছে দেয়া হচ্ছে ভালোবাসার এই ত্রানের প্যাকেট।
তিনি অারো বলেন,করোনা পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে খেটে খাওয়া মানুষগুলো খাদ্য সংকটে পড়েছে। সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিদেরও এসব মানুষের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করছি।

অা.জ.ম. নাছিরের নির্দেশে ২য় বারের মত সেহেরী বিতরণ করেন কোতোয়ালি থানা ছাত্রলীগ

News desk:Daily local voice

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সুদীপ্ত অাকাশ রাজন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র আলহাজ্ব আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের নির্দেশে সি.জে.কে.এস.(CJKS) এর কাউন্সিলর মোহাম্মদ সাইফুল আলম বাপ্পী এবং চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগনেতা মহিউদ্দীন আলী নূর মাঈনূ’র সহযোগিতায় ২০০ জন গরীব মেহনতি মানুষের মাঝে সেহেরী বিতরণ করেন কোতোয়ালী থানা ছাত্রলীগ।
কোতোয়ালী থানা ছাত্রলীগনেতা মোহাম্মদ শাহজাহানের নেতৃত্বে নগরীর চেরাগী পাহাড়,রহমতগন্জ,অান্দরকিল্লা এবং টেরীবাজারস্থ বিভিন্ন এলাকার ভাসমান অসহায় মানুষের মাঝে এই সেহেরী বিতরণ করেন জিকু,অন্দিন্য,সাইমুন,নিলয়,রামিম,কাব্য প্রমুখ।

কোতোয়ালি থানা ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ শাহাজাহান বলেন,প্রিয় নেতা অা.জ.ম নাছির উদ্দিন ভাইয়ের নির্দেশে এবং সাইফুল অালম বাপ্পী ও মহিউদ্দিন অালীনূর মাঈনু ভাইয়ের সহযোগিতায় করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে হ্যান্ডসেনিটাইজার বিতরণ,মাস্ক বিতরণ,ত্রাণ বিতরণ,ইফতার ও সেহেরী বিতরণ থেকে শুরু করে একের পর এক বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে কোতোয়ালি থানা ছাত্রলীগ।।

মায়ের জন্মদিনেও মা-ছেলে অালাদা

নিউজ ডেস্ক ঃ Daily local voice
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ ঢাকা

এই প্রথম মায়ের জন্মদিনে মা-ছেলে আলাদা। মা মহান পেশায় কর্তব্যরত। কোভিড-১৯ এর চিকিৎসা দিচ্ছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তাই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ১৫ মে থেকে।

নিজ হাতে কেক বানিয়ে ১১ বছরের ছেলে নিস্বর্গ এসেছে মায়ের সাথে জন্মদিন সেলিব্রেশন করতে। রাস্তায় জন্মদিনের কেক হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন চিকিৎসক সাবরিনা শাহরিন। এক পর্যায়ে তিনি নিজের জন্মদিনের কেকটি কাটলেন। সামনেই গাড়ির ভেতরে জানালার গ্লাসে একমাত্র শিশু সন্তান নিস্বর্গের চোখ। কেক কাটতে কাটতে চিকিৎসক মায়ের চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছিল, গাড়ির গ্লাসের ওপাশে সন্তানের চোখেও পানি।কেউ কাউকেই জড়িয়ে ধরতে পারছিলেন না!

কত কাছে! অথচ মনে হচ্ছে মা ছেলের দূরত্ব যোজন যোজনের!! কবে শেষ হবে মাকে ছুঁয়ে দেখার অপেক্ষা?

লেখকঃ তটিনী আচার্য

শুধুমাত্র শেখ হাসিনাকেই ম্যানেজ করতে পারিনি-পাপিয়া

নিউজ ডেস্ক ঃ Daily local voice

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সুদীপ্ত অাকাশ রাজন

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে রিমান্ডে মুখ খুলেছে পাপিয়া এবং অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছেন।পাপিয়ার কাছ থেকে জব্দকৃত বিভিন্ন মোবাইল ফোনে দেখা গেছে আওয়ামী লীগসহ সরকারের বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে পাপিয়ার ছবি। কখনো সেলফি তুলেছেন, কখমো ফটোসেশনে পোজ দিয়েছেন।

কিভাবে এটা সম্ভব হলো?

যখন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা পাপিয়ার কাছে জানতে চেয়েছেন তখন পাপিয়া বলেছেন,একমাত্র শেখ হাসিনাকেই তিনি ম্যানেজ করতে পারেননি।
শেখ হাসিনা ছাড়া সবাইকেই ম্যানেজ করা যায়।সবার সঙ্গেই তার সম্পর্ক রয়েছে।


সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে,
২০২০ সালের শুরু থেকেই পাপিয়া টার্গেট করেছিল যেকোন মূল্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
আর এজন্য বিপুল পরিমান টাকাও তিনি খরচ করেছিলেন।কিন্তু যারা তাকে সাক্ষাৎ করিয়ে দিতে চেয়েছিল তারা কেউই শেষ পর্যন্ত তাতে সফল হননি।

সূত্রগুলো বলছে,২০১৯ এর ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পরপরই পাপিয়া আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন।এই সময় তিনি একাধিক মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন।শেখ হাসিনার সঙ্গে একটিবার সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য অনুনয়-বিনয় করেছিলেন।এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক এক কর্মকর্তার কাছেও পাপিয়া ধর্ণা দিয়েছিলেন। ওই কর্মকর্তা তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন,শেখ হাসিনার সঙ্গে তাকে সাক্ষাৎ করিয়ে দেবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পারেননি।
গোয়েন্দা হেফাজতে পাপিয়া এটাও বলেছেন, অনেকের সঙ্গে তার সু সম্পর্ক ছিল।কিন্তু এখন তার বিপদে কেউ তার পাশে নেই। জানা গেছে, ওই সময় মহিলা সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য পাপিয়া চেষ্টা করেছিলেন।সে কারণে তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তিনি শেখ হাসিনা পর্যন্ত যেতে পারেননি।শেখ হাসিনাকে ম্যানেজ করতে পারেননি এজন্যই পাপিয়ার অনুশোচনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে,
পাপিয়া মনে করেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বা প্রশাসনে একমাত্র শেখ হাসিনা ছাড়া সবাইকে ম্যানেজ করা যায়।
জানা গেছে যে,পাপিয়ার মোবাইলে সরকারের প্রভাবশালী এমপি মন্ত্রীদের নাম্বার সেইভ করা আছে।প্রশাসনের উর্ধ্বতন আমলাদের নাম্বারও আছে পাপিয়ার মোবাইলে।এছাড়া ঢাকার একজন মন্ত্রীসহ অন্তত ৫জন এমপির সঙ্গে পাপিয়ার অন্তরঙ্গ মেসেজ বিনিময়ের তথ্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে আছে।

আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার কাছে পাপিয়া স্বীকার করেছেন যে,
৩জন এমপি নিয়মিত ওয়েস্টিনে তার অতিথি হতেন।অনুসন্ধানে আরো দেখা গেছে,আওয়ামী লীগের ৩৩ এমপিকে পাপিয়া বিভিন্ন রকম অনৈতিক উপঢৌকন দিয়েছিলেন। এর বিনিময়ে তাদের কাছ থেকে নানা রকম সুবিধা আদায় করেছিলেন।

গোয়েন্দা জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া এটাও স্বীকার করেছেন যে,রাজনীতিবীদদের চেয়ে আমলারা অনেক বেশি লোভী এবং তাদেরকে বশে আনা অনেক সহজতর কাজ।আমলাদের দিয়ে তিনি বিভিন্ন কাজ বাগিয়ে নিতেন বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে,পাপিয়া নেটওয়ার্ক বিস্তার করে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যাংককে পাচার করেছেন। ব্যাংককে তার স্কট ব্যবসা,ক্যাসিনো ব্যবসাসহ নানা রকম অবৈধ ব্যবসা রয়েছে বলে জানা গেছে।এই সমস্ত ব্যবসা দেখভাল করার জন্য তিনি নিয়মিত ব্যাংককে যেতেন বলেও জানা গেছে।
একমাত্র আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই পাপিয়ার এ সমস্ত অপকর্মের কথা জানতো।কিন্তু তারা পাপিয়ার প্রতি নানা কারণেই দুর্বল ছিলেন। যে কারণে তারা এই বিষয়গুলো নিয়ে কোন অ্যাকশনে যাননি। পাপিয়ার উশৃঙ্খলতা,অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি,অনিয়ম যখন সীমাহীন পর্যায়ে চলে যায়, তখনই আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর নজরে প্রথম আনেন।প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে পাপিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

করোনাকালীন সংকটেও কৃষির সাফল্য

সাজ্জাদুল হাসান
সভাপতি
বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি।

মুক্তপাঠ ডেস্ক ঃ Daily local voice

করোনা পরিস্থিতির প্রাদুর্ভাবকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর সংঘটিত বৈশ্বিক মহা বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশ এই সংকটকাল অতিক্রম করছে। করোনা ভাইরাসের এই সংকট অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের মতো কৃষি খাতেও বিস্তার লাভ করেছে। করোনা ভাইরাস যেমন রোগের উত্স হিসেবে মৃত্যুর কারণ হতে পারে ঠিক সেভাবেই অভাব, ক্ষুধা, হতাশা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। পুরো দেশের অর্থনীতিকে বেসামাল করে তুলতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতিকে, বিশেষ করে কৃষি অর্থনীতিকে উজ্জীবিত রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে কৃষি উত্পাদনের ওপর গুরুত্ব আরোপের মাধ্যমে যথাযথ ভূমিকা পালন করা যেতে পারে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতো তার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামগ্রিক কৃষিকে গতিশীল রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে খাদ্য উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আবাদি জমি ফেলে না রেখে প্রতি ইঞ্চি পতিত জমিতে ফসল ফলানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ব্রিটেনের আর্মির গৌরবগাথা অবদানের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চরম সংকট সময়ে ব্রিটেনে নারীরা খাদ্যনিরাপত্তায় এক কালজয়ী অবদান রেখেছিল। প্রলম্বিত বিশ্বযুদ্ধের নিশ্চিত পরিণতি দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল নারীদের হ্যাট-জিনস পরে ফসলের মাঠে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। চার্চিলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশপ্রেমিক প্রায় ৮০ হাজার ল্যান্ড গার্লস হ্যাট-জিনস পরে কাস্তে কোদাল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল ফসলের মাঠে, খামারে, পথে-প্রান্তরে। দেশপ্রেমের সঙ্গে শ্রম ঘাম আর বিশ্বমানবতার আবেগ সেদিন ব্রিটিশ ল্যান্ড গার্লস দুর্ভিক্ষ ও চরম খাদ্যাভাব থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল ৩ কোটি ব্রিটিশ নাগরিককে। ঠিক তেমনি আজকের এই করোনা সংকটকালে বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে কৃষকদের পাশে ফসলের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে কৃষি, প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তারা। বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মীরাও কৃষকের পাশে ধান কাটতে সহায়তা করছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার কৃষি প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন এই প্রণোদনা থেকে কৃষকরা ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে মাঠে ফসল চাষ করতে পারবেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। এ ছাড়াও ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ভর্তুকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সার, সেচ ছাড়াও এই ভর্তুকি খামার যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ব্যবহার করা যাবে। করোনা সংকট পরিস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় দেশের রাষ্ট্রযন্ত্র সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতায় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। বর্তমান ফসল উত্তোলন, ফসলের নমুনা কর্তন, বিদ্যমান ফসলের পরিচর্যা, উত্পাদনের উপকরণ সংগ্রহ ও সরবরাহ, বিতরণ, প্রণোদনা কর্মসূচির তালিকা তৈরি ও বাস্তবায়নসহ জরুরি নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে চলমান ত্রাণ কার্যক্রমেও ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগসমূহ।

প্রাসঙ্গিকভাবে বলা প্রয়োজন নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার হাওর অঞ্চলে আমার জন্ম। বিগত কয়েক বছর যাবত্ দেখেছি নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ এসব এলাকার হাওর অঞ্চলে বোরো ধান কর্তনের জন্য সাধারণত কৃষিশ্রমিক পাবনা, সিরাজগঞ্জ, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম রংপুর, গাইবান্ধা, জামালপুর, টাঙ্গাইলসহ অন্যান্য অঞ্চল থেকে আনা হয়। এবার যেহেতু করোনা সংকট চলমান এবং এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচলের বাধানিষেধ রয়েছে, তাই কৃষকের ফসল ঘরে তুলে আনার ক্ষেত্রে ছিল দুশ্চিন্তার কারণ। এমনই এক পরিস্থিতিতে আমাদের এলাকার কৃষকদের দিন রাত ঘুম ছিল না। অনেকেই আমাকে কৃষিশ্রমিক বাইরে থেকে আনার জন্য সহযোগিতা করার অনুরোধ করেছেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেছি। তবে কৃষি অর্থনীতির একজন ছাত্র হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পদক্ষেপগুলি জানার খুব আগ্রহ ছিল। কৃষিসচিব জনাব নাসিরুজ্জামানের কাছ থেকে বিস্তারিত অবগত হয়েছিলাম। তখন মনে হয়েছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কৃষি মন্ত্রণালয় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলেই আজকে বোরো ধান সংগ্রহে আমরা একটা প্রত্যাশিত ফলাফল পেতে যাচ্ছি।

এ ধরনের উদ্যোগ শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বাস্তবে কৃষকদের মাঠে সেটা প্রয়োগ করতেও দেখা গেছে। সেক্ষেত্রে প্রশাসন, পুলিশ এবং কৃষিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একাত্ম হয়ে কাজ করে গেছেন। চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর অঞ্চলে ধান কর্তনে কাজ করার জন্য কৃষিশ্রমিকদের কে পাঠিয়েছেন এবং নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার চট্টগ্রাম থেকে প্রেরিত কৃষিশ্রমিকদের সঠিক জায়গায় প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। শুধু তা-ই নয়, হঠাত্ জানতে পারলাম, মাননীয় কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি সম্ভবত একুশে এপ্রিল নেত্রকোনা জেলার মদন ও খালিয়াজুরী উপজেলায় কৃষকদের ধান কর্তন দেখার জন্য সকাল ৭টায় ঢাকা থেকে রওনা হবেন। মাননীয় মন্ত্রীকে তখন ফোন করে বিষয়টা নিশ্চিত হলাম এবং করোনার ঝুঁকির মধ্যে সাবধানে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। তিনি আমাকে বলেছিলেন কৃষকরা যেহেতু ঝুঁকিতে কাজ করছে তাদেরকে উত্সাহিত করার জন্য যাওয়া দরকার। যতটা সম্ভব নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তিনি সরাসরি হাওর অঞ্চলে কৃষকদের উত্সাহিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। তাই সকলের প্রচেষ্টায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বোরো ধান উত্পাদন সংগ্রহের ক্ষেত্রে আজ আমরা সফলতার দ্বারপ্রান্তে।

আশা করা যাচ্ছে উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ কোটি ৪ লক্ষ টন নির্ধারণ করা হলেও তা ছাড়িয়ে যাবে। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। আমার কাছে মনে হয়েছে আমরা শুধু সমালোচনার দিকটাই তুলে ধরি, তবে ভালো কাজের প্রশংসা করা উচিত। এই যে বিশাল একটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে তার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠকর্মী, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীগণসহ প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যারা অবদান রেখেছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তবে আমাদের এই সবকিছু অর্জনের মূল চালিকাশক্তি কৃষিবান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। করোনাকালীন এই সংকটে ভিডিও কনফারেন্সে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সর্বদাই বলতে শুনেছি, কৃষিক্ষেত্রে এক ইঞ্চি জমিও পতিত রাখা যাবে না উত্পাদন বাড়াতে হবে। আমাদের এই নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে। এটা ভুলে গেলে চলবে না পৃথিবীতে যত মহামারি হয়েছে এবং তাতে যত লোক মারা গেছে তার চেয়ে বেশি লোক মারা গেছে মহামারি উত্তর দুর্ভিক্ষে। ২০১৯-২০২০ এর করোনা মহামারিতে সারা পৃথিবীতে কী ঘটবে তা এখনই বলা মুশকিল। তবে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ভবিষ্যদ্বাণী করেছে করোনার প্রভাবে সারা বিশ্বে ৩ কোটি মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহজাহান কবীরের কাছ থেকে জানতে পেরেছি এবার আউশের আবাদ গত বছরের চেয়ে প্রায় ৩ লক্ষ হেক্টর বৃদ্ধি করা হয়েছে। আউশের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মে মাসের মধ্যেই রোপণ কাজ শেষ হবে। আমরা আশা করতে পারি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আউশের উত্পাদন গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি হবে এবং লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য যে গত বছর ১১ লাখ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ করা হয়েছিল এবং ধান উত্পাদন হয়েছিল ৩০ লাখ টন। এ বছর ১৪ লক্ষ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ করা হবে এবং উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছে ৩৭ লাখ মেট্রিক টন। আমন ধানের চাষাবাদ এবং উত্পাদনের ক্ষেত্রে ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলে আশাবাদী। তবে খাদ্য উত্পাদনের সঙ্গে সামগ্রিকভাবে খাদ্য বিপণন ব্যবস্থারও উত্কর্ষ সাধন করতে হবে। তবে একথাও ঠিক, আমাদের কৃষি যন্ত্রায়নের দিকে আরো আগানোর প্রয়োজন রয়েছে। জমিতে সার দেওয়া, পানি দেওয়ার কাজগুলো যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। এখনো আমাদের কৃষিতে ব্যবহারের যন্ত্র প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হলেও সেদিকে আমরা আগাচ্ছি।

জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ চাল উত্পাদনে উদ্বৃত্ত। আরো খুশির খবর, চাল উত্পাদনে আজ বাংলাদেশ ইন্দোনেশিয়াকে পেছনে ফেলে সারা বিশ্বে তৃতীয় স্থান অধিকার করতে যাচ্ছে। তাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কৃষির অগ্রগতিতে আমরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যাব আশা রাখি।

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতি।

করোনায় অক্রান্ত মৃত দেহ সৎকারে এগিয়ে এসেছেন চট্টগ্রামের একদল তরুণ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সুদীপ্ত অাকাশ রাজন

খালের পানিতে হেঁটে লাশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছি।

নিউজ ডেস্ক ঃ Daily local voice

রাত দুটায় হঠাৎ সুমন ভাইয়ের কল।
কসমোপলিটনে একজন করোনা রোগী মারা গেছেন তার দেহ দাহ করতে হবে। তিনি বললেন সকাল ৭টায় রেডি থাকতে। আমার ঘুমাতে ঘুমাতে ৫টা বাজলো। ৬টায় উনি কল্ দিলেন। বললেন বাসার সামনে আসছে তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য। আমি ব্রাশ করে কোনো দানা পানি মুখে না দিয়ে বের হয়ে গেলাম। তখন কিন্তু বৃষ্টি হচ্ছে। উনার সাথে গেলাম চট্টগ্রাম মেডিকেল। সেখানে ফর্মালিটিজ সেরে লাশ আর তাদের পরিবার নিয়ে ছুটলাম উত্তর কাট্টলি শ্মশানের দিকে। আমার সহযোদ্ধা ছিলো সুমন ভাই, সুস্ময় এবং রাজিব দাদা। সেখানে শ্মশানের পরিবেশ দেখে চমৎকৃত হলাম। বিশাল এলাকা জুড়ে সবুজ জঙ্গল, একপাশে খাল আর মাঝখানে শ্মশান। শ্মশানে যেতে মাঠ পার হতে হয়।

যায় হউক লাশটা নিয়ে চিতায় উঠায় দিলাম আমরা তিনজন। সুমন ভাই আমাদের ইনস্ট্রাকশন দিচ্ছিলেন। লাশটা যত্নের সাথে চিতায় উঠিয়ে তার পরিবার দিয়ে দাহ করিয়ে যখন চলে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছি তখন আরো একজন রোগীর করোনা উপসর্গে মৃত্যুর খবর পেলাম। একফোটা পানিও সকালে না পড়ায় কাহিল লাগছিলো। এক থেকে দেড় ঘন্টা বসে রইলাম। খাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, ফেসবুকে ঢুকার কোনো সুযোগ নেয়। ঘুম হয়েছে মাত্র এক ঘন্টা। তাও কাউকে বুঝতে দিলাম না। একটু পর সেই লাশকে নিয়ে তাদের পরিবার আসলো এবং আমাদের আরো দু’জন স্বেচ্ছাসেবক আসলেন। কিন্তু এই লাশ নেওয়ার সময় সামনে পরে গেলো বড় বাধা।

তখন পানিতে জোয়ার শুরু হয়েছে। তাই খালের পানি মাটিতে চলে এসেছে। শুধু মাটিতে আসছে বললে ভুল হবে। শ্মশানে যাওয়ার যে রাস্তা সেটাও বলা যায় একটা খালে পরিনত হয়ে গেছে। প্রায় হাঁটু সমান পানি। স্রোতের গতি মোটামুটি ভালো। চিতায় তুলতে পুরো এই জায়গাটা পাড় হতে হবে। এক মিনিট চিন্তা না করে সবাই নেমে পড়লাম পানিতে। মারা যাওয়ার পর মানুষের লাশ অনেক ভারি হয়, তার উপর পানির জোড়, তার উপর ভারি লাশ নিয়ে এক হাঁটু পানিতে হাঁটা। অনেক পিচ্ছিল ছিলো। কেউ সাঁতার জানিনা। কোনো কারনে পা ফসকে গেলে হয়তো মারা যাওয়ার চান্স বেশি। তার উপর থেমে থেমে বৃষ্টি তার উপর বাতাস। খাওয়া হয় নাই, ঘুম হয় নাই আর পানিতে সাপের ভয় তো আছেই। কিন্তু তোয়াক্কা করি নাই কোনো কিছু। পাড় করেই ছাড়লাম লাশটা। বাধা আসছে ঠিকই কিন্তু দমাতে পারে নাই আমাদের। কারন বাধা দেখে দমে যাওয়ার জন্য আসি নাই। আসছি মৃত্যুকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য। হাসি মুখে মৃত্যুকে বুকে লাগানোর জন্য। যায় হউক লাশটা নিয়ে রাখলাম চিতায়। মানুষটার স্ত্রী আর ছোটভাই অবাক। ছোটভাই পাড় হয়ে আগুন দিলো।

Daily local voice

অনেক ক্লান্ত কিন্তু তাও সার্থক। অবশেষে কাজ সেরে বাসায় আসলাম।
অনেক ক্লান্ত কিন্তু সার্থক।

যেকোনো করোনা রোগীর মৃতদেহের সৎকারের জন্য আমরা প্রস্তুত যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গায়, যেকোনো পরিস্থিতিতে।

লেখক ঃ রাজবীর অাকাশ

চমেকে নতুন করে আরো ১00 শয্যা আইসোলেশন ওয়ার্ড উদ্ভোধন করেন মেয়র নাছির

নিউজ ডেস্ক ঃ Daily local voice

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সুদীপ্ত অাকাশ রাজন

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কোভিড রেড জোন ও নতুন ১০০ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড স্থাপন করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দীন আজ বৃহষ্পতিবার সকালে এই আইসোলেশন ওয়ার্ডের উদ্বোধন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ,স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক ডা.হাসান শাহরিয়ার কবির,মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রি.জেনারেল ডা. এস এম হুমায়ুন কবির,চট্টগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন ডা.ফজলে রাব্বি,বিএমএ সভাপতি প্রফেসর ডা. মুজিবুল হক খান,সাধারণ সম্পাদক ডা.ফয়সল ইকবাল চৌধুরী,ডা.শাহীন হাসান,ডা.সাহানারা, অনুরুদ্ধ কর, রঞ্জন কান্তি নাথ, নাসির উদ্দীন মাহমুদ প্রমুখ।

নতুন আইসোলেশন শয্যা উদ্বোধনকালে মেয়র
বলেন, ক্রমাগত করোনা রোগী সনাক্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে।আর বিশেষ করে মহামারি করোনা ভাইরাসের আক্রান্ত রোগীদের জন্য পৃথক হাসপাতাল,পৃথক ওয়ার্ড ও পৃথক শয্যা থাকা একান্ত জরুরী।কিন্তু আমাদের
চিকিৎসা ব্যবস্থায় সংকট রয়েছে।তারপরও সরকার সহ আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড ও শয্যার ব্যবস্থা করতে।চট্টগ্রামের হলিক্রিসেন্ট হাসপাতালকেও জেনারেল হাসপাতালের আওতায় দ্বিতীয় ইউনিট হিসেবে চালু হচ্ছে। ফলে এখানে আরো ১০০ রোগীকে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হবে। তিনি সংক্রমণ এড়াতে সব সাধারণ হাসপাতালে করোনা রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড ও শয্যার ব্যবস্থা থাকা জরুরী বলে উল্লেখ করেন।

এই সংকটকালীন সময়ে সচেতনতা,ধৈর্য্য ও সাবধানতা অবলম্বন করে জীবনযাপন করার আহবান জানান তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন চমেক হাসপাতাল
জামে মসজিদের খতিব ও পেশ ঈমাম মাওলানা কামাল হোসেন জাফরী।

হ্যালো ছাত্রলীগের হটলাইন নাম্বারে কল করলেই পৌঁছে যাচ্ছে খাবার

নিউজ ডেস্ক ঃ Daily local voice

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সুদীপ্ত অাকাশ রাজন

মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণে লাকডাউন থাকায় গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন মানুষ। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা। এসব অসহায় মানুষের ঘরে দ্রুত খাদ্য সেবা পৌঁছে দিচ্ছে ছাত্রলীগ।চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজের উদ্দ্যোগে চট্টগ্রামে এই প্রথম ‘হ্যালো ছাত্রলীগ’ এই খাদ্যসামগ্রী উপহারের সেবা চালু করেছে।
তারই ধারাবাহিকতায়,অাজ বৃহস্পতিবার হ্যালো ছাত্রলীগের সেবা পৌছে দিয়েছেন সাবেরিয়া আদালত কলোনি, এস আলম কলোনি,
পাথর ঘাঁটা, জয়নাব কলোনি,ঘাঁসিয়া পাড়া,কলিফা পট্টি,দেয়ান বাজার, প্রবর্তক মোড় এই আটটি পরিবারে।

প্রত্যেকটা পরিবারের বাজারের প্যাকেটে ছিল একবেলার চাল,আলু, পেঁয়াজ ,মাছ,টমেটো,কাঁচা মরিচ,ধনে পাতা।

সুভাষ মল্লিক সবুজ বলেন,
“সবাই মিলে গড়বো দেশ
বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ,
আমাদের আছে শেখ হাসিনা
করোনা মোকাবেলায় ভয় করি না”

স্লোগানকে সামনে রেখে হতদরিদ্র মানুষের জন্য অামার এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

“হ্যালো ছাত্রলীগ”এর হটলাইন নাম্বার,
যোগাযোগ ঃ 01883273850,
01678304060
সৌজন্যে,
সুভাষ মল্লিক সবুজ
সাধারণ সম্পাদক
চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ।