করোনা পরিস্থিতিতে ভালো নেই প্রতিমা শিল্পীরা। Daily Local Voice

News Desk : Daily Local Voice

বরিশাল জেলার বগাখালী গ্রামে আমাদের পূর্ব নিবাস। ঠাকুরদা ছিলেন খুব নিষ্ঠাবান মানুষ। আমার বাবা ছিলেন তাঁর একমাত্র সন্তান। অল্প বয়সে ঠাকুরদা মারা যান। পৈত্রিক সম্পদ বলতে ছিল ছয় বিঘা জমি। বাবা পড়াশোনা জানতেন না বলে তাও ধরে রাখতে পারলেন না। খাজনার না দেয়ার দায়ে সব কেড়ে নিয়েছিল মহাজন। ভিটেমাটি হারিয়ে আমাদের ঠাঁই হল ফরিদপুরে মামার বাড়িতে। মা তখন অন্তসত্তা। অক্ষয় তৃতীয়ার পরের দিন আমি ভূমিষ্ট হলাম। তাই বাবা নাম রেখেছিলেন নিমাই। পরবর্তী কালে আমি বেড়ে উঠলাম মামার বাড়িতে। প্রতিমাশিল্পী হিসেবে দাদুর নামডাক ছিল। বাবাও ছিলেন এই কাজে সম পারদর্শী। তাই ছোটবেলা থেকেই বাবা আর দাদুকে দেখে আমিও মাটি নিয়ে খেলতাম। আর এভাবে দেখতে দেখতে কখন যে তাদের সহযোগী হয়ে উঠলাম নিজেও জানি না। হয়তো এটাই পাল বংশের ঐতিহ্য। পুরো গ্রামের লোক দাদুকে একনামে চিনতো। দাদুর সহযোগী হবার সুবাদে বাবারও বেশ নাম ডাক ছিল।

একদিন হঠাৎ করে বাবাকে প্রশ্ন করলাম “আমার শুধু মাটি দিয়ে ঠাকুর বানাই কেন? অন্য কাজও তো করতে পারি? ” বাবা হেসে উত্তর দিলেন “এই সমাজে এক এক জনের কাজ এক এক রকম। ব্রাক্ষনেরা ঠাকুর পূজা করে, জেলেরা মাছ ধরে, ঢাকিরা ঢাক বাজায়। ঠিক তাদেরই মতই আমরাও মাটি দিয়ে ঠাকুর গড়ি।” সেদিন থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম এটাই আমাদের বংশ পরম্পরা। আমরা যদি ঠাকুর না বানাই তবে পুজো হবে কী করে! তখন থেকেই মনস্থির করলাম আমিও পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখবো। লেখাপড়ার পাশাপাশি বাবার কাজেও সাহায্য করতাম। এ যেন এক অপার আনন্দ।

মনপ্রান দিয়ে ঠাকুর গড়ার কাজ শিখছিলাম। হটাৎ একদিন বাবা আমাদের ছেড়ে পরপারে চলে গেলেন। মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। বুঝলাম এবার আমাকেই সংসারের হাল ধরতে হবে। পড়াশোনায় ইতি টানলাম। মাধ্যমিক পাশ করার আগেই বের হলাম জীবিকার সন্ধানে। মাটি দিয়ে প্রতিমা গড়া ছিল নেশার মত। তাই এই নেশাকেই পেশা হিসেবে নিলাম। নরেশ কাকার হাত ধরে পাড়ি জমালাম শহরে। শুরু হলো আমার নতুন জীবন। নতুন উদ্দ্যমে প্রতিমালয়ে কাজ শেখা শুরু করলাম। মায়ের মুখে হাসি ফোঁটাতে হাজার কষ্টের মাঝেও দাঁত কামড়ে পড়ে রইলাম। কখনো মাসে বা কখনো এক কালীন মাইনে পেতাম। তা থেকে মাকে কিছু টাকা পাঠাতাম। কোনভাবে কাটছিল আমাদের অভাবের সংসার।

Daily Local Voice

গ্রাম আর শহর যেন আকাশ পাতাল তফাৎ। সব কিছুর পরেও কেমন যেন একটা অপূর্ণতা রয়ে যায়। গ্রামে ঠাকুর বানাতাম এক আদলে, হয়তো আকৃতি বড়-ছোট হতো তবুও সমতাবিধান ছিল। কিন্তু শহরে প্রতিমায় ছিল ভিন্ন ভিন্ন আদল। এখানে কারিগরেরা প্রতিমা বানায় খদ্দেরের চাহিদা অনুযায়ী। এ নিয়ে কারো কোন অভিযোগ নেই। প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে সবকিছুই মেনে নিতে হয়। প্রথমে একটু বেমানান লাগলেও পরে ঠিক সহনীয় হয়ে ওঠে। খদ্দের বাইনা করার পর শুরু হয় কাজের তোড়জোড়। পরিচিতির খাতিরে নাম মাত্র টাকাতে বাইনা হয়। মাটিমাড়ানো, বেনা বাঁধা, মাটির প্রলেপসহ অনেক পরিশ্রমের পর প্রতিমার প্রাথমিক গঠন তৈরি হয়। খদ্দের কিছুদিন পর পর প্রতিমালয়ে এসে নানা চাহিদা ও আবদার করতে থাকে। যেমন-অসুরের হাতে খরগ্ না হয়ে গদা হলে আরো ভালো লাগতো, দূর্গা ঠাকুরের মুখমন্ডল কিন্তু অমুখ অভিনেত্রীর মতো হওয়া চাই, অলংকার টা কিন্তু সোনার মত চকচকে করা চাই, রং টা আরো উজ্বল হলে ভাল হতো। কিন্তু যখনই প্রতিমা নেওয়ার সময় হয়, তখন সবার মুখে যেন এক বিষন্নতা। বেশিরভাগের মুখে একটাই কথা, এবার পূজোর চাঁদা তেমন ওঠে নি। কিছু টাকা কম দিলে কী বা এমন হবে! একজন যদি কিছু কম দেয় তা মেনে নেয়া যায়, কিন্তু দশজনে যদি বাকী টাকা কমিয়ে দিতে চায় তখন আমাদের উপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়। তবুও মেনে নেয়া হয় খদ্দেরের সব আবদার। যেন আসছে বছরের কাজটা হাত ছাড়া না হয়। তবে খদ্দেরদের মাঝে অনেকে ব্যতিক্রমও আছেন।ভালোই কাটছিল দিনগুলো। কয়েক বছর যেতেই মায়ের অনুরোধে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হল। বেড়ে গেল দায়িত্ব।

এই পুজোকে ঘিরে কত জল্পনাকল্পনা, কত প্রতিযোগিতা, কত সমালোচনা, কত সম্মাননা। কিন্তু আমরা যথাযথ সন্মানী পাই না। এই বেদনা নতুন নয়। তবুও হাসি মুখে থাকতে চাই, শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে চাই। কিন্তু করোনা মহামারীর এই সংকটময় মুহূর্তে তা কী সম্ভব হবে? ভগবান ছাড়া এ প্রশ্নের উত্তর কারো কাছে নেই।

ফাল্গুন মাসের মাঝামাঝি থেকে আমাদের কাজ বন্ধ। মহামারির প্রকোপে সবাই ভীত-সংকীর্ণ। কিছু বাসন্তী ঠাকুরের বায়না করে গিয়েছিল। কাজ অর্ধেক হতে না হতেই সরকার লকডাউন জারি করলো। প্রথমে বুঝিনি এই লকডাউনের অর্থ কি। কিন্তু যত দিন গড়িয়েছে ততই হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পেরেছি। সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হবে, না হলে বিপদ। কিন্তু জীবিকা না থাকলে জীবনে কষ্টের সীমা থাকে না।

প্রতি বছর চৈত্রসংক্রান্তিতে মায়ের জন্য নতুন কাপড় নিয়ে বাড়িতে যেতাম। এই বছর কাপড় তো দূরের কথা অর্থসংকটে ঠিক মত টাকাই পাঠাতে পারি নি। পুরাতন কর্মচারী বলে মালিকপক্ষ কিছু বলতে পারে না। সাত বছর ধরে কাজ করছি বলে মায়া জমে গেছে, তাই তাড়িয়েও দিতে পারছেন না। কিন্তু উনারাই বা আর কতদিন চালাবেন? জমানো যা অর্থ ছিল তাও শেষের পথে। উপার্জন করে চলার মত অন্য কোন কাজ জানা নেই। পুথিগত বিদ্যাও তেমন নেই।

আমাদের প্রতিমালয় দেখে মনে হবে কত কাজ, কত প্রতিমা। কিন্তু কজনেই বা জানে, যে প্রতিমাগুলো ফাল্গুন মাসে বায়না করে রেখে গেছে তা আর নিয়ে যায় নি। পুজোই তো আর হল না। কাকেই বা দোষ দেবো, বুঝাবোই বা কাকে?

এখন কেউ আসে না এখানে। হয়তো কারো মনেই নেই আমাদের কথা। বিপদাপন্ন আজ প্রতিটি মুহুর্ত। অস্তিত্ব রক্ষাই যেন বড় দায়। কেউ কখনো ভাবে নি এমন একটা দিন আসবে। আর আমরা এভাবে অসহায় হয়ে পড়বো। এতদিন কত সংগঠনের নাম শুনেছি। সহযোগীতা তো দূরে থাক, বেচে আছি কিনা তাও কেউ খবর নিলো না। আমরা তো এতদিন সকলের এত আবদার-অনুরোধ কত কিছুই না রাখলাম। আজ আমাদের প্রতি কি একটু দৃষ্টি দেয়া যায় না? এ শিল্পটাকে বাচিয়ে রাখার জন্য কি আমাদের হাতটা ধরা যায় না? যে হাত দিয়ে কাজ করতে শিখেছি, সে হাত পেতে কিছু চাইতে বিবেক যন্ত্রণায় ভুগি।

স্রষ্টার কাছে শুধু একটাই প্রার্থনা, সকল দূর্যোগ অতিক্রান্ত হয়ে পুজোটা আবার শুরু হোক। মা বাসন্তিকে যেন আবার মা দূর্গারুপে মন্ডপে অধিস্থিত করতে পারি।

[ উপরোক্ত গল্পটুকু বহু প্রতিমা শিল্পীর অন্তরের আকুতিকে ছোটগল্পে চিত্রায়িত করার ক্ষুদ্র প্রয়াস। গল্পটা তাদের জীবন থেকেই সংগ্রহীত। গল্প হলেও প্রতিটি কথাই সত্য। তাদের প্রতি আমাদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। ভেবে দেখুন তো একবার, আজ এই শিল্পীগোষ্ঠী যদি পিছপা হয়, তারা যদি তাদের কর্দমাক্ত হাতটা ধুয়ে পেশা পরিবর্তন করে তবে কী হবে?
তাই আপনার/আমার/আমাদের দায়িত্ব সহযোগীতার মাধ্যমে তাদের শিল্পটাকে বাচিয়ে রাখা। তা না হলে এমন একটা সময় আসবে আমাদের পুষ্পাঞ্জলির পুষ্প ভগবানের চিত্রপটে কিংবা ঘটে নিবেদন করতে হবে। ]

পরিশেষে যার কথা বলে ইতি বাক্য টানতে চাই, তিনি হলেন আমাদের সকলের প্রিয় একজন মানুষ ” গৌঁতম পাল ” দাদা। যার কথা না বললেই অপূর্ণতা রয়ে যাবে অামাদের সম্পূর্ণ কাজাটার মাঝে। যিনি কিছুদিন আগেই ইহলোকের সকল মায়া ত্যাগ করে পরলোকে গমন করেছেন। সকলে প্রার্থনা করবেন, এই মানুষটি যেন ওপারে খুব ভালো থাকে।

চিত্রগ্রাহকঃ Ruhit Chowdhury
নির্দেশনাঃ Kishoresh Bhattacharjee
সহযোগিতাঃ Sourav Das

বাশঁখালী থানার টহল পুলিশের অভিযানে ৮২৯০ পিস ইয়াবাসহ এক নারী আটক।Daily Local Voice

Crime Desk:Daily Local Voice

চট্টগ্রাম জেলার বাশঁখালী থানার টহল পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৮২৯০ পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজার জেলার পেকুয়ার উপজেলার এক গৃহবধু বাঁশখালীতে আটক।

প্রাথমিক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে,তার নাম মিতু আকতার মনি (২১) স্বামী আকতার মিয়া (৩০)। আকতার মিয়া, পেকুয়া মইয়ার দিয়া ইউনিয়নের, ৩নং ওয়ার্ড়, মইয়ারদিয়া পাড়ার বাদশা মিয়ার ছেলে। মেয়ের বাপের বাড়ি বাগেরহাট শরণখোলার মৃত লতিফ খন্দকারের মেয়ে বলে জানান।

আজ ৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার সময় বাঁশখালী থানার টহল পুলিশ পুইঁছড়ি ফুটখালী নাশি নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে এই যুবতী কে আটক করে।

বাঁশখালী রায়ছটা ও প্রেমাশিয়া সড়কের বেহাল দশা। Daily Local Voice

News Desk : Daily Local Voice

চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার ৩নং খানখানাবাদ ইউনিয়নের অর্ধ কিলোমিটার সড়ক ও রায়ছটা প্রেমাশিয়া উপকূলীয় দেড় কিলোমিটারসহ প্রায় ২ কিলোমিটার সড়কের দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে বছরের পর বছর ঝড় জলোচ্ছাসের ফলে রায়ছটা মোকামীপাড়া সড়কের অর্ধেকাংশ ভেঙে পাশের পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এবং রায়ছটা প্রেমাশিয়া উপকূলীয় সংযোগ সড়কটি সংস্কার না করায়, দিনের পর দিন এটি ভেঙে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে। যার ফলে স্থানীয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুল, কলেজে যাতায়াতে দূর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত শহরে চিকিৎসা কর্মে ও উপজেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সংক্রান্ত যাতায়ত জরুরি কাজে উপজেলা সদরে গমনা-গমন এবং রোগী-পরিবহনের জন্য অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে। বর্তমানে উক্ত সড়কটি যান চলাচল ও মানুষ চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপকূলীয় এলাকায় পর্যটক পরিভ্রমনে ও ঝড় বাদলের আবহাওয়ায় দুর্যোগ সংকেতের সময় সাইক্লোন শেল্টার যাতায়াত এ জনভোগান্তির শেষ নেই। যদিও সরকারের পরিকল্পনামতে গ্রামীণ ও সামগ্রিক অর্থনীতি চাঙ্গা করতে গ্রামীণ অঞ্চলের ভঙ্গুর রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কারে, এমনকি অনুন্নত, চির অবহেলিত হাট বাজার উন্নয়নে মনোযোগ দিচ্ছে সরকার।

৩নং খান খানাবাদ ইউনিয়নের প্রেমাশিয়া, কদমরসুল, ডোংরা ও রায়ছটা এলাকার সড়কের বেহাল দশা রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকাবাসী।

‘হুজুরের কথা শোনা ফরজ,না শুনলে গুনাহ হবে’ বলেই ধর্ষণ।Daily Local Voice

Crime Desk: Daily Local Voice

গত ২৫ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন দারুল হুদা মহিলা মাদরাসার তিন ছাত্রী অভিযোগ করে- মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান তাদের ধর্ষণ, ধর্ষণচেষ্টা ও নানরকম যৌন হয়রানি করেন। এমন গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ১১ শুরু করে গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন অনুসন্ধান।

এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ১১ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে গতরাত ৯টার সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন দারুল হুদা নামক মহিলা মাদরাসায় অভিযান পরিচালনা করে ধর্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান (২৯) কে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন যাবৎ দারুল হুদা মহিলা মাদরাসার ১১ ছাত্রীকে বিগত ৩ বছর ধরে মাদরাসায় তার রুমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানি করে আসছে এবং এই অপকর্মের পর সেইসব ছাত্রীদের কেউ কেউ মুখ খোলার চেষ্টা করলে তাদের একেক জনকে একেক অপবাদ দিয়ে মাদরাসা থেকে বের করে দেয়। এ ভাবে সে বিভিন্ন বয়সী মাদরাসার ছাত্রীদের কখনো বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে আবার কখনো জোরপূর্বক ধর্ষণ করত। সে ছাত্রীদেরকে কখনো আখিরাতের ভয় দেখিয়ে হুজুরের কথা শোনা ফরজ, না শুনলে গুনাহ হবে এবং জাহান্নামে যাবে এ রকম নানা ফতোয়ার মাধ্যমে, তাবিজ করে পাগল করা বা পরিবারের ক্ষতি করার কথা বলে ছাত্রীদের ধর্ষণ করত বলে স্বীকার করে। 

এমনকি তার ৮ বছর বয়সী নিকটাত্মীয় যে তার মাদরাসায় পড়ত তাকেও একাধিকবার ধর্ষণ করেছে বলে ভিকটিম এর মা-বাবা অভিযোগ করে যা ধর্ষক অকপটে স্বীকার করে। এ ছাড়াও ধর্ষক মোস্তাফিজ নিজেই বিভিন্ন জাল হাদিস তৈরি করে হুজুরের সাথে সম্পর্ক করা জায়েজ আছে বলে ছাত্রীদের বলত। একটি জাল হাদিসের মাধ্যমে অভিভাবক ও স্বাক্ষী ছাড়া বিয়ে হয় বলে একাধিক ছাত্রীকে কৌশলে ধর্ষণ করার পর আরেকটি জাল হাদিসের মাধ্যমে তালাক হয়ে গেছে ফতোয়া দিয়ে মাদরাসা থেকে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে বের করে দিত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৬ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও আরো ৫ ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা ও যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করে। 

গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

ক্যান্সারের কাছে পরাজিত খ্যাতিমান সংগীত শিল্পী এন্ড্রু কিশোর। Daily Local Voice

News Desk: Daily Local Voice

দীর্ঘ দিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর। অবশেষে ক্যান্সারের কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি। সোমবার (০৬ জুলাই) সন্ধ্যায় মারা গেছেন এই খ্যাতিমান শিল্পী। এর আগে রবিবার সন্ধ্যায় তাঁর শারিরীক অবস্থার অবনতির কথা জানিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল।
বাংলার সংগীত জগতের ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে খ্যাতিমান শিল্পী এন্ড্রু কিশোর।

তাঁর মৃত্যুতে ডেইলি লোকাল ভয়েস পরিবার শোকাহত।অামরা তাঁর অাত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

জাতীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন বাশঁখালীর সন্তান ইউএনও বিভীষণ কান্তি দাস।Daily Local Voice

News Desk : Daily Local Voice

২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের কৃতি সন্তান বিভীষণ কান্তি দাস। বিভীষণ কান্তি দাশ বর্তমানে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রাষ্ট্রীয় শুদ্ধাচার পুরস্কার হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবর্তিত সরকারি কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষ, সততা ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে প্রদান করা একটি পুরস্কার। ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান নীতিমালা-২০১৭ প্রকাশিত হয়।

সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা রাষ্ট্রীয় অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত কর্মচারীদের পুরস্কার প্রদানের উদ্দেশ্যে শুদ্ধাচার পুরস্কার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়।২০১২ সালে । কর্মচারী বলতে মন্ত্রণালয়, বিভাগ, বা অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বোঝানো হয়েছে।

শুদ্ধাচার চর্চার ১৮টি ক্ষেত্রে ৫ নাম্বার করে মোট ৯০ নাম্বার এবং মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, দফতর বা সংস্থা কর্তৃক ধার্যকৃত অন্যান্য কার্যক্রমে ১০ নাম্বার; মোট ১০০ নাম্বারের মধ্যে একজন কর্মচারীকে যাচাইবাছাই করে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। শুদ্ধাচার পুরস্কারপ্রাপ্ত কর্মচারীরা পুরস্কার হিসেবে একটি সার্টিফিকেট এবং এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন।

রংপুরে পত্রিকার হকারদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেনঃএসপি বিপ্লব।Daily Local Voice

News Desk : Daily Local Voice

রবিবার ৫ জুলাই দুপুরে রংপুর প্রেসক্লাব মার্কেটে দেশে চলমান করোনা দুর্যোগে হকারদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে
রংপুর জেলা পুলিশের আইকন,পুলিশ সুপার #
জনাব বিপ্লব কুমার সরকার, বিপিএম-বার, পিপিএম, পুলিশ সুপার, রংপুর মহোদয়।

এসময় বিপ্লব সরকার বলেন, করোনাভাইরাসের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও মাঠে থেকে যথাসময়ে সঠিক সংবাদটি মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়ে জনসচেতনতার কাজটি করে যাচ্ছে সংবাদপত্র শিল্পে জড়িত কর্মীবাহিনী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংবাদপত্র পৌঁছে দিচ্ছেন পত্রিকার হকাররা।সংবাদপত্রের হকাররা সেই পত্রিকা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন। তাই এই দুর্দিনে তাঁদের খবর আমাদের রাখতে হবে। রংপুর জেলা পুলিশ সেই প্রক্রিয়া নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে।

Daily local voice

তিনি আরও জানান, দেশে চলমান করোনা দুর্যোগে হকারদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে ১০০ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছে রংপুর জেলা পুলিশ। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে উপজেলা জুড়ে যেসব হকার রয়েছেন তাদের একত্রিত করে স্বাস্থ্য সুরক্ষার সরঞ্জামসহ কিছু খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। রংপুর জেলা পুলিশের পক্ষে এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) জনাব আনোয়ার হোসেন, রংপুর এবং কমিউনিটি পুলিশিং, রংপুর জেলা সমন্বয় কমিটি সহ আরো অনেকে।

টাকার অভাবে বই কিনতে না পারা মেয়েটি আজ এএসপি!Daily Local Voice

Education Desk : Daily Local Voice

হাওরের মেয়ে ডলি রানী সরকার। অনেক বাধা-বিপত্তি ও প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন তিনি। জীবনের শুরু থেকে অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছেন। দিনে ১৪-১৫ ঘণ্টা পড়াশোনা করে আজ তিনি সফল। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ৩৮তম ব্যাচের পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ডলি রানী সরকার।

কৃষক বাবার সন্তান ডলি রানী সরকার। নবম শ্রেণি পর্যন্ত বাবার সঙ্গে হাওরের মাঠে কৃষিকাজ করেছেন। বর্ষাকালে পড়াশোনা আর হেমন্তে বাবার সঙ্গে হাওরে ধান কাটা, ফসল লাগানোসহ সব ধরনের কাজে বাবাকে সহযোগিতা করেছেন ডলি। মূলত কৃষিজমি থেকেই শুরু হয় তার জীবন সংগ্রাম।
ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগী ছিলেন তিনি। শিক্ষাজীবনের শুরুতে ধর্মপাশা উপজেলার মধ্যনগর থানার ঘাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ষষ্ঠ থেকে সপ্তম শ্রেণিতে ওঠার পর তার বাবা অসুস্থ হন। এজন্য পরিবারে দুঃসময় চলে আসে তাদের। এ অবস্থায় সংসার চালানোর ভার পড়ে তার ওপর। পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সেবা-যত্ন, জমিতে কৃষিকাজ ও কষ্ট করে সংসার চালানোর সব দায়িত্ব এসে পড়ে ডলির কাঁধে।
হাওর অঞ্চলের সন্তান হওয়ায় বর্ষাকালে পানির সঙ্গে বসবাস। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় বই কিনতে পারেননি। এ অবস্থায় শিক্ষক ও সহপাঠীদের দেয়া পুরাতন বই নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।একদিকে পরিবারের প্রতি দায়িত্ব অন্যদিকে নিজের পড়াশোনা এমন কঠিন সময় পার করে কেবল নিজ চেষ্টায় আজ এই অবস্থানে এসেছেন।

সীতাকুণ্ডে গৃহহীনদের ঘর হস্তান্তর করলেন এমপি দিদার। Daily Local Voice

News Desk : Daily Local Voice

সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ডে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারকে নতুন ঘর তৈরী করে দিয়েছেন সংসদ সদস্য আলহাজ্ব দিদারুল আলম। তিনি শনিবার (৪ জুলাই) বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের শীলপাড়া ও ৫ নং ওয়ার্ডের দাশপাড়ার রঞ্জিত শীল এবং স্বপ্না রানী দাশকে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন।

গত ডিসেম্বরে বাড়বকুণ্ডে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে গরীব,অসহায় উক্ত দুই পরিবারের ঘর সম্পুর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এমপি দিদারুল আলমের  আর্থিক সহযোগীতায় এবং ইউপি চেয়ারম্যান সাদাকাত উল্লাহ মিয়াজীর ব্যবস্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত, গৃহহীন দুই পরিবারের মাঝে উক্ত ঘর তৈরী করে দেওয়া হয়।

ঘরের চাবি হস্তান্তরকালে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিল্টন রায়, ইউপি চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্লাহ মিয়াজী, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ  এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যবৃন্দ।

দুয়ারে-দুয়ারে বিনামূল্যে অক্সিজেন সেবা দিচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতা অমিতাভ চৌধুরী বাবু।Daily Local Voice

Health Desk : Daily Local Voice

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশও এর ব্যাতীক্রম নয়। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকেই ভুগছেন শ্বাসকষ্টে। দেশের হাসপাতাল গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন সিলিন্ডার না থাকায় মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকছেন তারা। আর এসব রোগীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে অক্সিজেন সেবা দিচ্ছেন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ চৌধুরী বাবু।

অমিতাভ চৌধুরী বাবু বলেন,করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় হাসপাতালে রোগীর চাপ বেশি। মুমূর্ষ রোগীর অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেও অক্সিজেন পাচ্ছে না, আবার অনেকের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় অক্সিজেন সুবিধা নিতে পারছে না। হাসপাতালে সুবিধা না পেয়ে বাড়তি দামের কারণে অনেকে অক্সিজেন সিলিন্ডারও কিনতে পারছে না। এতে অনাকাঙ্খিতভাবে অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটছে। অসহায় ও সংকটে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে অামার এই উদ্যোগ। চট্টগ্রাম নগরীর যেকোনো এলাকা থেকে ০১৭১১০০৬৮১৬ নম্বরে ফোন করলে তাৎক্ষণিকভাবে রোগীর বাসায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি অারো বলেন, করোনাভাইরাস সারা দেশে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ,তাও সাধ্যমত করোনা পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। তবে সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে কাঙ্খিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অক্সিজেন কমে যাওয়া করোনা ভাইরাসে অাক্রান্ত রোগীদের জন্য এক ভয়াবহ পর্যায়। অক্সিজেন কমার ফলে মানুষ মারাও যেতে পারে। কিন্তু সবক্ষেত্রে সবসময় অক্সিজেন সহজলভ্য নাও হতে পারে অক্সিজেনের অভাবে যেন কেউ মারা না যান সেইজন্য ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি। যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে আশা করি অক্সিজেনের অভাবে কেউ মারা যাবে না।