
নিজস্ব প্রতিবেদকঃসুদীপ্ত অাকাশ রাজন
সকলের তরে সকলে অামরা,
প্রত্যেকে অামরা পরের তরে।।
কামিনী রায়ের এই বাণী নানা সময়ে নানান মানুষের মধ্যে প্রতিফলিত হতে দেখেছি আমরা। তবে বিশাল এ পৃথিবীতে এই মানুষগুলোর সংখ্যা একেবারেই যৎসামান্য। তারপরও এই মানুষগুলি আছে বলেই আহাজারি পৃথিবীটা এখনও বাঁচার স্বপ্ন দেখে। হৃদয়হীনা এই পৃথিবীতে ভালোবাসার মেলবন্ধন তৈরি করা এক মহীয়সী নারীর গল্প বলব আজ।
তিলোত্তমা সিকদার।তিনি কাটপট্টি এলাকার বাসিন্দা ও সমাজসেবক হিরেন সিকদারের মেয়ে। পড়াশোনা করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সদস্য,কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের উপ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য’ এই দায়িত্ববোধ থেকেই করোনার সংকটময় মুহূর্তে তিনি ক্লান্তিহীনভাবে সকাল-সন্ধ্যা ছুঁটে বেড়াচ্ছেন ক্ষুধার্ত মানুষের খোঁজে। দাঁড়াচ্ছেন পাশে, দিচ্ছে নানা সহায়তা, জোগাচ্ছেন সাহস আর প্রেরণা।দেশে মহামারি করোনা সনাক্ত হওয়ার পরপরই জনসচেতনতায় তৎপর হন ছাত্রলীগের এই নেত্রী। তিনি একজন নারী হয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন ইচ্ছাশক্তি মানুষকে কোথায় পৌঁছে দিতে পারে। করোনার মধ্যে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অসহায়,দরিদ্র,পথশিশু,রিক্সা-ভ্যান চালক এবং নিম্নবিত্ত মানুষের সঙ্গে তৈরি করেছেন ভালোবাসার এক মেলবন্ধন।প্রথম রোজা থেকে পঁচিশতম রোজা পর্যন্ত একটি ভ্যানে ইফতার নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে পথচারী ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে নিজ হাতে তৈরি ইফতার বিতরণ করছেন তিলোত্তমা সিকদার।রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে শহরের এ প্রাপ্ত থেকে ওই প্রান্ত অসহায় দুস্থ মানুষের দ্বারে দ্বারে তার ছুঁটেচলা দিনে দিনে যেন এক স্বপ্নময় সমাজ বুনন করে চলেছে।ঘামঝরা দুপুরে এভাবে অবিরাম ছুটে চলেছেন দুস্থ মানুষগুলির মুখে একফালি চাঁদের হাসি ফুটাতে। শুধু ইফতারের আয়োজনই নয়, অর্থ-সংকটে পড়া অর্ধ-শতাধিক শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা করেছেন তিনি।পাশাপাশি অসহায়দের বাড়িতে চাল,ডাল,আটাসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পাঠিয়েছেন।
একজন খোদ ছাত্রপ্রতিনিধির এরূপ ভালোবাসা যেন কাঠপট্টিবাসীকে নতুন রূপে প্রাণসঞ্চার করেছে।
তিলোত্তমা সিকদার বলেন,
১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হওয়া দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ছাত্রসংগঠন “বাংলাদেশ ছাত্রলীগ”
বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টি থেকে অদ্যাবধি বাংলাদেশে ছাত্রলীগ এর প্রতিটি নেতা কর্মী নিজের জীবন বাজি রেখে দেশ মাতৃকার সেবায় নিয়োজিত ছিল, আছে এবং থাকবে।
তারই প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশের এই ক্রান্তিলগ্নে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের একজন ক্ষুদ্র কর্মী হিসেবে মানবতার সেবায় সবসময় ছিলাম,অাছি এবং থাকবো।