
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটির দাবিতে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি করেছে চট্টগ্রামের সচেতন হিন্দু সমাজ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ১৫টিরও অধিক হিন্দু সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি থেকে অবিলম্বে তিনদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেন হিন্দু সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এছাড়া আগামী ৮ অক্টোবর বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গণভবন অভিমুখে সত্যাগ্রহ পদযাত্রা (লংমার্চ) কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সচেতন হিন্দু সমাজের আহ্বায়ক রিপম দাশ শেখর।

Daily Local Voice
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সংবিধানে সবধর্মের মানুষের জন্য সমান অধিকার ও সুযোগ সুবিধার বিধান থাকা সত্বেও এদেশের হিন্দু সম্প্রদায় সে সুযোগ সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হচ্ছে শারদীয় দুর্গা পূজা। সারাবছর হিন্দু সম্প্রদায় এই উৎসবের দিকে চেয়ে থাকে। পরিবারের সবাই এই ধর্মীয় উৎসবেই একত্রিত হওয়ার জন্য উন্মুখ থাকে। অথচ শুধুমাত্র পূজার শেষের দিন অর্থাৎ বিজয়া দশমীর দিন একদিন সরকারি ছুটি থাকায় হিন্দু সম্প্রদায় পরিবার পরিজন নিয়ে ধর্মীয় উৎসব পালন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে। সে কারণে এদেশের হিন্দু সম্প্রদায় সবসময় সরকারের কাছে দুর্গা পূজায় তিনদিনের সরকারি ছুটি দাবি করেছে। একইসঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন অজুহাতে এদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন নিপীড়ন চলে আসছে। হিন্দু সম্প্রদায় এখনো আতঙ্কগ্রস্ত। আর একারণেই আসন্ন দুর্গাপূজায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করারও দাবি জানানো হয় সমাবেশ থেকে।

Daily Local Voice
এর আগে গত সেপ্টেম্বর দুর্গপূজায় তিন দিনের ছুটির দাবিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
টিটু শীল অর্পের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন চসিক কাউন্সিলর পদপ্রার্থী শৈবাল দাশ সুমন, পুলক খাস্তগীর, রুমকি সেনগুপ্ত, রমনা কালি মন্দিরের উপদেষ্টা মিলন শর্মা, অধ্যাপক বনগোপাল চৌধুরী, সাংবাদিক বিপ্লব পার্থ, ডা. কথক দাশ, সুজিত সরকার, প্রিতম দেবনাথ, রুবেল কান্তি দে, বিশ্বজিৎ সরকার, বাপ্পীদেব বর্মণ, লিংকন তালুকদার, অশোক চক্রবর্তী, অমিত ধর, রুবেল কান্তি দেবনাথ, বিকাশ কান্তি দাশ, উত্তম কুমার দে, মিন্টু দেবনাথ, নেপাল শীল, কমলেন্দু শীল, গোপাল দাশ টিপু, লিপ্টন দেবনাথ, সুদীপ্ত অাকাশ রাজন,রিপন দাশ, ছোটন চৌধুরী রয়েল, রিপন ঘোষ, রাজু দাশ, রবিন পাল, অভিজিৎ দেবনাথ প্রমুখ।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল জাগো হিন্দু পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, সনাতন, বিশ্ব সনাতন ঐক্য, শারদাঞ্জলি ফোরাম, বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ, সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, গোয়ালপাড়া লোকনাথ সেবা সংঘ, গীতামৃতম সংঘ বাংলাদেশ, সনাতন মৈত্রি সংঘ, বাংলাদেশ সনাতনী সেবক সংঘ, বাংলাদেশ বৈদিক পরিষদ, বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ, রাধা বিনোদ কেন্দ্রীয় পরিষদ, নবযুগ মা দুর্গা ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় স্বাধীনতা পার্টি সহ অারো অনেক সংগঠন।













